প্রশিক্ষণ থেকে কর্মসংস্থান-২৭ প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত
রাজশাহীতে প্রশিক্ষণভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সকালে নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে শুরু হওয়া এ মেলায় ২৭টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ। চাকরি প্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে মেলাটি রূপ নেয় সম্ভাবনার এক মিলনমেলায়।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আইডিএফ) এ মেলার আয়োজন করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চাকরির সুযোগ তৈরি করার এ উদ্যোগ সময়োপযোগী এবং প্রশংসার দাবিদার। এর মাধ্যমে তরুণদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ রাজশাহীতে ব্যতিক্রমধর্মী এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে। তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা সময়ের দাবি। দক্ষ কর্মীই ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মু. মতিউর রহমান বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া টেকসই কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। তিনি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ করে দিতে।
সভাপতিত্ব করেন আইডিএফের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যাপক মো. শহীদুল আমিন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যে আইডিএফের সমন্বয়কারী মো. একরাম হোসেন জানান, গুরু-শিষ্যভিত্তিক ছয় মাস মেয়াদি শিক্ষানবিশ কর্মসূচির আওতায় বিউটি পারলার, টেইলারিং, ওয়েল্ডিং, মোবাইল সার্ভিসিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও আইটি সাপোর্টসহ ২০টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ২৪৯ জন গুরুর অধীনে ৮৪৩ জন শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কর্মসংস্থান পেয়েছেন অথবা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, নিম্ন আয়ের পরিবারের ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিটি শিক্ষানবিশকে ২১ হাজার টাকা এবং গুরুকে ৯ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়েছে।
মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলে চাকরি প্রার্থীরা সরাসরি জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন এবং প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। আয়োজকরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের এই সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের তরুণ সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।