মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাজশাহীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নেই ওষুধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ মে ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ন
রাজশাহীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নেই ওষুধ

গেল চার মাস ধরে ওষুধের নেই রাজশাহীর অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। অনেকেই ক্লিনিকে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন, আবার অনেককে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বাড়তি খরচে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আর এতে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।


প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক। স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার সুযোগ থাকায় গ্রামীণ মানুষের কাছে এসব ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।


রাজশাহী জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ২৪৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ওষুধ পেতেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। কয়েক মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষেরা।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে সরকারিভাবে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ২৭ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হতো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে। বর্তমানে জ্বর, ডায়রিয়া, হাঁচি-কাশি ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কাগজে-কলমে এখন ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সরবরাহও অনিয়মিত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিরা জানান, সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে অধিকাংশ ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল। তখন যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মাস কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আর ওষুধ পৌঁছেনি। ফলে দিন দিন সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।


রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে রোগীদের ভিড় থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।


স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল আলী বলেন, বাড়ির পাশে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকায় আগে অনেক উপকার পেতাম। অসুস্থ হলে বেশিরভাগ ওষুধ এখান থেকেই পাওয়া যেত। এখন প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টের।


মধুসূদনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি নূর আলম বলেন, আমাদের ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী আসেন। কিন্তু ওষুধের সরবরাহ না থাকায় আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যাও কমেছে। চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ দিতে না পারায় রোগীরা হতাশ হচ্ছেন।


শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হলেও ওষুধ সংকটের কারণে সেই সেবার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ মিললেও ওষুধ না পাওয়ায় রোগীদের শহর বা বাজারের ফার্মেসি থেকে বাড়তি খরচে ওষুধ সংগ্রহ করতে হচ্ছে।


রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বেড়াবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জাকিয়া বলেন, প্রায় চার মাস ধরে আমাদের ক্লিনিকে কোনো ওষুধ নেই। বর্তমানে ওষুধের মজুত একেবারেই শূন্য। আমরা রোগীদের প্রেসক্রিপশন দিতে পারছি, কিন্তু ওষুধ দিতে পারছি না। শুধু আমাদের ক্লিনিক নয়, গোটা মোহনপুর উপজেলার বেশিরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই অবস্থা।


একই চিত্র দেখা গেছে বাগমারা উপজেলাতেও। দক্ষিণ জামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সেলিম হোসেন বলেন, বাগমারায় ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। প্রায় সবগুলোতেই ওষুধ সংকট চলছে। শেষ ওষুধ পেয়েছি আগস্ট মাসে। এরপর আর কোনো সরবরাহ আসেনি। এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের বেশিরভাগই গরিব ও অসহায় মানুষ। ওষুধ না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু পবা, মোহনপুর বা বাগমারা নয়, রাজশাহীর প্রায় সব উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, যারা এসব স্বাস্থ্যসেবার ওপর নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।


রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম রাজিউল করিম বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে কয়েক মাস ধরেই ওষুধ সরবরাহে সংকট চলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।