তথ্য অধিকার আইনে দক্ষতা বাড়াতে রাজশাহীতে বেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালা
তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আইনটির ব্যবহারিক প্রয়োগে অংশীজনদের দক্ষতা বাড়াতে রাজশাহীতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) নগরীর সাহেববাজার এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও আইনজীবীসহ মোট ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে তথ্য অধিকার আইন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং তথ্য আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বেলার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল। তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় কীভাবে তথ্যের জন্য আবেদন করতে হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পেলে কীভাবে আপিল করতে হয় এবং প্রয়োজনে তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা যায়—এসব বিষয়ে নাগরিকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ আইন নাগরিকদের ক্ষমতায়নের একটি কার্যকর হাতিয়ার।
কর্মশালায় বেলার কর্মসূচি ও মাঠসমন্বয়কারী এএমএম মামুন বেলার অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি পরিবেশ, ভূমি, পানি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন এবং আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে নাগরিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এদিকে তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা মোকাবিলার কৌশল নিয়ে উপস্থাপনা করেন রাজশাহী জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক নাফেয়ালা নাসরিন। তিনি সরকারি দপ্তরে তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেন। তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে তারা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদনপত্র প্রস্তুত করেন এবং তা উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা হাতে-কলমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার আইন তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। এ আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি হ্রাস এবং গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করা সম্ভব। বক্তারা নাগরিকদের তথ্য অধিকার সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আইনটির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা বলেন, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত হলে জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।