নাটোর মহিলা পরিষদের সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন
নারী ও কন্যার প্রতি ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে দেশ ব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসাবে কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মঙ্গলবার বিকালে নাটোর মহিলা পরিষদ জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সংগঠনটির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামা বসাক এর সভাপত্বিতে এতে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমীর পুরুস্কার প্রাপ্ত কথা সাহিত্যক ডা. জাকির তালুকদার, নাটোর রবীন্দ্র সম্মেলন পরিষদের সহ-সভাপতি এ্যাডঃ খগেন্দ্র নাথ, এ্যাডঃ আব্বাস আলী ও বাকী বিল্লাহ লিগ্যাল এইডস সম্পাদক বিজলী রেজা।
এসময় সংগঠনের প্রচার সম্পাদক শেফালী রানী, সংগঠন সম্পদকমাকসুদা পারভীন অফিস সহকারী ছন্দা শাহাসহ বিভন্ন সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বলা হয়, মেয়েদের পোশাক, সৌন্দর্য, স্বাধীনভাবে চলাফেরা, বন্ধুত্ব, আচরণ যদি ধর্ষণের কারণ হয়ে থাকে, তাহলে শিশু ধর্ষণের হার বাড়ছে কেন? আইনের পাশাপাশি সমাজকে বুঝতে হবে, লজ্জা শুধু ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর নয়, লজ্জা ধর্ষকের। কেবল মৃত্যুদণ্ডের আইন পাশ করলেই ধর্ষণ বন্ধ হবে না।
এছাড়া নারী ও কন্যা শিশুরা সামাজিক লজ্জা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং আর্থিক নির্ভরতার কারণে অনেক সময় নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না। ফলে সহিংসতা ধীরে ধীরে চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। যেসব নারী পুরোপুরি পরিবার বা স্বামীর ওপর নির্ভরশীল, তাঁরা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সহজে দাঁড়াতে পারেন না।
বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, ২০২১-২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন ১ হাজার ৩৪ জন নারী। এ সময়ে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রাণ গেছে ২৭৩ জন নারীর।
‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ, ২০২৪’ অনুযায়ী, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী তাঁদের জীবনে অন্তত একবার জীবনসঙ্গী বা স্বামীর সহিংসতার শিকার হয়েছেন; যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক, যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতা, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ। তিনজনের মধ্যে দুজন ভুক্তভোগী সহিংসতার কথা কখনোই প্রকাশ করেননি।
আসক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নারীপক্ষ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টসহ (ব্লাস্ট) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি এবং নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনগুলোর মতে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু আইন থাকলেই হবে না, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি।