সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বদলগাছীতে ভাগি শরীক ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মারপিটের ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের

(নওগা) প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২৬ ০১:৪২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
(নওগা) প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২৬ ০১:৪২ অপরাহ্ন
বদলগাছীতে ভাগি শরীক ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মারপিটের ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ঝাড়ঘড়িয়া গ্রামে ‘মামলাবাজ’ হিসাবে পরিচিত মঞ্জুর হোসেন (খাকন) জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ভাগিশরীকের ৯ জনের বিরুদ্ধে তাকে মারপিট করার অভিযোগ তুলে থানায় ‘মিথ্যা’ মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে এলাকায়। থানার এসাআই মো, রবিউল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রামে মামলা তদন্তে গেলে মিথ্যা মামলার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাদি মঞ্জুর হোসেন তাঁর দখলীয় পুকুর পাড়ে মাছ পাহারা দিচ্ছিল এমন সময় বিবাদীগণ তাকে এসে রড, লাঠি, শোডা দিয়ে মারপিট করে এবং কিলঘুষি মারে। তাঁর ডান হাতের কুনুর নিচের হাড় ভাঙ্গা জখম হয়। সাক্ষীরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা পালিয়ে যায়। পরে সাক্ষীদের সহযোগিতায় আক্কেলপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়। ঘটনার ২ মাস পর জুনের ৮ তারিখে মামলাটি বদলগাছী থানায় রেকর্ড করা হয়।

ঝাড়ঘড়িয়া গ্রামে রাস্তার পাশে মামলায় যে পুকুর পাড়ে মারামারির ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে , গত ১৭ জুন বুধবার সরজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, সেই  পুকুরের পাড়ে একটি বাঁশের মাচা ফেলানো রয়েছে। আশে পাশে কিছু ঘাস ফুলের গাছ লাগানো আছে। মাচায় বসে আছে একজন লোক। জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর নাম রেজওয়ান হোসেন। এই পুকুর পাড়ে গত এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ রাত ৯ টার পরে কোন মারামারি হয়েছে কি না? উত্তরে তিনি বলেন, এখানে কোনো মারামারি হয়নি। মঞ্জুর যার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে এটা তাঁর স্বভাব। পুকুরটা কার জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি জানায়, মঞ্জুরের অংশ আছে সামান্য- বাঁকি পুরো পুকুর তাঁদের শরীকদের কিন্তু ভয়ভীতি দেখিয়ে জবর দখল করে ভোগদখল করে মঞ্জুর। এভাবে মঞ্জুর ২টি পুকুর জবর দখল করে মাছ চাষ করে। মামলার ১নং  সাক্ষী বাদীর আপন ভাতিজা মোহান বাবু জানান, মঞ্জুর হোসেন আমার বড় আব্বা হয়। আমাকে মামলার সাক্ষী করেছে, আমি জানিনা। তাছাড়া কোনো মারামারি হয়নি। এটা মিথ্যা মামলা করেছে। 

ওই গ্রামের মৃত কায়েম উদ্দিনের ছেলে আবু কালাম এই মামলার ৪নং সাক্ষী। তিনি জানান, পুলিশের এস আই তদন্তে এসেছিল- আমাকে বলল কি জানেন। আমি বললাম কিছুই জানি না। আমাকে বলল, আমি যে তদন্তে এসেছিলাম এর জন্যে আপনি একটা স্বাক্ষর করেন। স্বাক্ষর নেওয়ার পর আমাকে বলছে আপনাকে সাক্ষী করা হলো। আরো অনেককে সাক্ষী করেছে এবং বাদী তার নিজের ভাতিজাকে সাক্ষী করেছে- জিজ্ঞেস করেন কি বলে তাঁরা। মামলার ২নং সাক্ষী সাকী ইসলাম, ৩নং সাক্ষী পিন্টু হোসেন, ৫নং সাক্ষী হায়দার আলী বলেন, কোন ঘটনায় ঘটেনি, কিছুই জানি না। অথচ আমাদের সাক্ষী করেছে। ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত নই।

মামলার বাদী মুঞ্জুর হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে মারপিট করেছে। হাতে হাড় ভাঙ্গা জখম হয়েছে। গ্রামের যদি কেউ সাক্ষী না দেয় তাহলে হাসপাতাল সাক্ষী দিবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রবিউল ইসলাম মামলা তদন্ত চলছে দেখি কোন পর্যায়ে যায়। থানার অফিসার ইনচার্জ মো, রুহুল আমিন বলেন, তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে ফাইনাল প্রতিবেদন দেওয়া হবে । মেডিকেল রিপোর্ট কি আসে সেটা দেখতে হবে।