সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

এবার ইদুল আজহায় পশু কোরবানিতে ক্রেতার নজর স্প্রিং এর তৈরি ছুরি-চাপাতি

গোলাম রসুল, দুর্গাপুর ২০ মে ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
গোলাম রসুল, দুর্গাপুর ২০ মে ২০২৬ ১১:২৭ অপরাহ্ন
এবার ইদুল আজহায় পশু কোরবানিতে ক্রেতার নজর স্প্রিং এর তৈরি ছুরি-চাপাতি

আগামি (২৮ মে) বৃহস্পতিবার পবিত্র ইদুল আজহা। আর এই ইদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন আনাচে কানাচে অবস্থিত কামাররা। দিনরাত সমান তালে ঠন ঠন আওয়াজে তারা এখন হাসুয়া, ছুরি, চাপাতি, দা, বটি তৈরি ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে ক্রেতাদের চাহিদা যানবাহনের অব্যহৃত স্প্রিং দিয়ে তৈরিকৃত ছুরি-চাপাতির।


কোরবানি ইদ যতই এগিয়ে আসছে ততই যেত ব্যস্তা হয়ে পড়ছেন কামার ও ক্রেতারা। ক্রেতারা তাদের পছন্দের হাসুয়া, ছুরি, চাপাতি, কুড়াল, মাংস কাটার জন্য গাছের গুলের টুকরো কিনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবছর একটু কম সরঞ্জামাধি ও প্রয়োজনিয় জিনিস পত্রাধী ক্রয় করছেন ক্রেতারা বলে জানান কামার ব্যবসায়ীরা। 


উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ইদকে সামনে রেখে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কামাররা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঠণ,ঠণ আওয়াজে কাজ করে চলেছেন তারা। অনেকের হাতে বেশি অর্ডার থাকায় নতুন করে আর কোন অর্ডারও নিচ্ছেনা। সারা বছর কাজ না থাকলেও কোরবানির ইদের এ সময়টা বরাবরই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। পশু জবাইর সরঞ্জামাদি কিনতে লোকজন ভিড় করছেন তাদের দোকানে। কামারের দোকান গুলোতে শোভা পাচ্ছে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু জবাইয়ের  উপকরণ। প্রতি বছর কোরবানির ইদ উপলক্ষে হাসুয়া, দা, ছুরি, চাপাতি, ও ধামার ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায়। 


ব্যবসায়ী সঞ্জিত কুমার জানান, ‘তার দোকানে বিভিন্ন প্রকার দা,বটি রয়েছে। প্রতিটি দা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০শ’ টাকা, হাসুয়া ৩৫০টাকা, ছোট ছুরি ১০০ টাকা, বটি ৩০০শ’ টাকা, চাপাতি ৭০০-৮০০ টাকা করে। এছাড়াও ভালো মানের ট্রাকের স্প্রিং পাতি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ছুরি চাপাতি রয়েছে। যার দাম একটু বেশি। যারা বেশি দাম দিয়ে ভালো মানের ছুরি চাপাতি চাচ্ছেন কেবল তাদের কাছেই এগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও সব রকম লোহার তৈরি দা বটি রয়েছে।’


মৃত বুদু কামারের ছেলে উত্তম কামার জানান, ‘তার দোকানে প্রতিবছর কোরবানির সময় বিভিন্ন জানবহনের স্প্রিং ও পাতির তৈরি ছুরি,চাপ্পড়,দা,বটির অনেক চাহিদা থাকে। তাই তিনি অন্যান্য লোহার তৈরির চেয়ে জানবহনের স্প্রিং ও পাতির তৈরীর জিনিসকে বেশি প্রাধান্য দেন। তাই তিনি কোরবানির ইদ উপলক্ষে পুরো বছর জুড়েই স্প্রিং ও পাতির তৈরী ছুরি,চাপ্পড়,দা,বটি তৈরি করে থাকেন। যা বিক্রি করেন কোরবানির ইদে। তিনি ছোট ছুরি ১৫০ টাকা বড় ছরি ১০০০ টাকা, চাপ্পড় ৮০০ টাকা,দা ৭০০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন।’ এছাড়া তিনি মাংস কাটার জন্য গাছের গুলের টুকরো বিক্রি করছেন আকার ও প্রকার ভেদে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পিস।


দুর্গাপুর সিংগা বাজারের বলাই কর্মকার জানান, ‘সারা বছর কাজ খুব কম থাকে, কোরবানি এলে কাজ বেড়ে যায়। বর্তমানে ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় ছুরি ও ধামার পোড়ানো ও সান দেয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুণের ভিত্তি করে ৭০ থেকে ১০০টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।’ 


দুর্গাপুর বাজারে পশু জবাইয়ের ছুরি কিনতে আসা বকুল ইসলাম, ‘মহফুজুর রহমানসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, কোরবানির ইদের আর বেশি সময় নেই। তাই তারা শেষ মুহূর্তে এসে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনার কাজটি সেরে ফেলছেন। তবে অন্যান বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, চাপাতির দাম একটু বেশি বলে জানান তারা।’ লোহার পাশাপাশি এদিকে স্টিলের ছুরি চাকুও  লোকজনকে আকৃষ্ট করছে। তবে মানুষ বেশি কিনছেন ট্রাকের স্প্রিং দিয়ে তৈরিকৃত ছুরি-চাপাতি।  


এদিকে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাণ দেন তাদের অবস্থা মোটামুটি ভাল বলে জানা গেছে। যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করেন তাদের একজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে তাদের কমবেশি সারা বছরই কাজ থাকে। কারণ মহিলাদেরতো সারা বছরই হাসুয়া, দা- বটি দিয়ে কাজ করতে হয়। এদিকে নতুন সঞ্জামাধি কেনা ও মেরামত করার একটু বেশি মূল্যের ধরার বিষয়ে কামার দোকানিদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, বর্তমানে কয়লার ও বিভিন্ন সরানজামাদির দাম একটু বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদেরও মূল্য একটু বৃদ্ধি করতে হয়েছে তাছাড়াও শুধু বছরে  ইদুল আজহার সময় ছাড়া তেমন কোন কাজ হয়না তাই একটু বেশি নেওয়া হয়। তবে ক্রেতারা হাসি মুখেই তা মেনে নেন।