মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

ঝড়ে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ, বজ্রপাত-গাছ চাপায় নিহত ৮

সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ মে ২০২৬ ০২:২৬ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ মে ২০২৬ ০২:২৬ অপরাহ্ন
ঝড়ে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ, বজ্রপাত-গাছ চাপায় নিহত ৮
ঝড়ে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যজুড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে কলকাতা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে এই তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যায়। ঝড়ের আঘাতে উপড়ে গেছে বহু গাছপালা, ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ির দেয়াল। এর ফলে রেল ও বিমান সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি কলকাতায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।


ঝড়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে চার লাখ রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়ের দাপটে রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জ, হরিশ মুখার্জী রোড, রিপন স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, মল্লিক বাজার ও এজেসি বোস রোডসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে। পরবর্তীতে কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে গাছ সরিয়ে রাস্তা সচল করেন।


ঝড়ের কারণে শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গায় ওভারহেড তার ছিঁড়ে যায়। কলকাতা বিমানবন্দরেও বেশ কিছু সময় প্লেন ওঠানামা ব্যাহত হয়।


কলকাতায় ঝড়ের কবলে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝড়ের সময় একটি গাছের ডাল ভেঙে চক্ররেলের ওভারহেড লাইনের ওপর পড়লে তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, কলকাতার চেতলা এলাকায় ঝড়ের দাপটে দেয়াল ভেঙে মাথায় পড়লে রবিন কুমার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।


রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। জেলাটিতে বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাশুড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা চৈতন্য ধীবর (৫৬) কাজ শেষে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে মারা যান। এছাড়া শেখ ছোটু (২৫) নামের এক যুবক এবং বরাবাজার থানার পালমা গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় নিমাই চন্দ্র গড়াই (৪৫) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে প্রাণ হারান।


পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়ের কবলে পড়ে রূপক চইড়া ও অয়ন গোস্বামী নামের নবম শ্রেণির দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম জেলায় মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মুক্তিপদ পাল (৫৯) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ওদিকে হুগলি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।


পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য পৌরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতা পৌরসভা ও কলকাতা পুলিশ একযোগে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ