বাবা-মাকে ব্ল্যাকমেল করতে তিন ঘণ্টা খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে তরুণ! শেষ পর্যন্ত তিন জনেরই মৃত্যু
ওখান থেকে সরে আয়, এই কাজ করিস না, এক বার তো বাবা-মায়ের কথাটা ভাব— পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা তরুণকে এ ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁর বাবা-মা এবং পঞ্চায়েত প্রধান। কিন্তু তরুণ নাছোড়। বরং হুমকি দিয়ে তিনি বলতে থাকেন, ‘‘আমার আর কোনও উপায় নেই। এটাই একমাত্র পথ।’’
মহারাষ্ট্রের খাড়াই পাহাড়। নীচে গভীর খাদ। কিনারায় দাঁড়িয়ে বছর আঠারোর এক তরুণ। তার থেকে কয়েক হাত দূরে বাবা-মা, গ্রামবাসীদের কয়েক জন ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বাবা-মা যখন তরুণকে বোঝাতে ব্যর্থ, পঞ্চায়েত প্রধান এগিয়ে আসেন। তরুণকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘এটাই কি সমাধান? এটা কোনও সমাধান নয় বাবু। এক বার তো মায়ের কথা ভাবো। তার কী হবে?’’
উত্তর আসে, ‘‘না, আমাকে মরতেই হবে। এটাই একমাত্র পথ।’’ তিন ঘণ্টা ধরে তরুণকে বোঝানোর চেষ্টা চলে। একটা সময় তরুণের বাবা এগিয়ে তাঁকে টেনে সরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। আর সেই চেষ্টা করতেই দু’জনে খাড়াই পাহাড় থেকে নীচে পড়েন। দু’জনে নীচে পড়ে যেতেই ছুটে গিয়ে ওই জায়গা থেকেই ঝাঁপ দেন তরুণের মা-ও। একই পরিবারের তিন জনের এ ভাবে মৃত্যুতে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। কিন্তু কেন তিনটি তরতাজা প্রাণ চলে গেল? নেপথ্য কারণ কী?
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তরুণের নাম কুণাল। বয়স ১৮। সম্প্রতি একটি আইফোন কিনেছিলেন তিনি। আইফোন কেনা নিয়ে বাবা এবং মায়ের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কিও হয়। বাবা জানিয়ে দেন, আইফোনের কিস্তির টাকা তিনি দিতে পারবেন না। কারণ, তাঁর সেই টাকা দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। কিন্তু কুণাল বেঁকে বসেন— ফোনের কিস্তি না দিলে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন। গত কয়েক দিন ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে একটা টানাপড়েন চলছিল। শুক্রবার সেটি চরমে ওঠে। রাগের বশে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান কুণাল।
মা-বাবাও তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন। না পেরে কুণালের পিছু নেন। কুণাল সোজা চলে আসেন তিসগাঁও এলাকার খাভদা পাহাড়ে। পিছনে তখন তাঁর বাবা-মা চিৎকার করে বলে চলেছেন, ‘‘তুই যা চাইবি, তা-ই দেব। ফিরে আয়।’’ তখনও তাঁরা ধারণা করতে পারেননি যে, তাঁদের ছেলে ভয়ানক কাণ্ড ঘটাতে চলেছেন। গ্রামের লোকজনদের ডাকেন কুণালের বাবা। তাঁরাও চলে আসেন। কুণাল তত ক্ষণে পাহাড়ের কিনারায় গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। বলতে থাকেন, ‘‘আমাকে আটকানোর চেষ্টা করবে না।’’ খবর দেওয়া হয় পুলিশকেও। সকলে মিলে কুণালকে নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যান। তাঁকে ফিরে আসার অনুরোধ জানান। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই টানাপড়েন চলতে থাকে। কুণালকে শান্ত করানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু সেই চেষ্টা শেষমেশ বিফলে যায়।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন