শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ইরানকে সাহায্য করলে কঠোর জরিমানা! কোন দেশের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ?

সোনার দেশ ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২২ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
ইরানকে সাহায্য করলে কঠোর জরিমানা! কোন দেশের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ?
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানকে সাহায্যকারী দেশগুলির উপর কঠোর আর্থিক জরিমানা চাপাতে চলেছে আমেরিকা। আগেই সে কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার আমেরিকার অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়ে দিলেন, সোমবার এই সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে চলেছে। ইরানকে চাপে রাখতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধের পরিকল্পনা করে রেখেছে আমেরিকা। তা সোমবার বিস্তারিত জানাবেন বেসেন্ট। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ীই বিধিনিষেধের পরিকল্পনা করা হয়েছে।


মার্কিন হুঁশিয়ারির পর অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরানও। তারা জানিয়ে দিয়েছে, যে কোনও হুমকির মুখে ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের সেনাবাহিনী। তার জন্য আমেরিকা যেন তৈরি থাকে। ইরানের সশস্ত্র সামরিক বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আব্দোল্লাহি বলেন, ‘‘স্থল, জল, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সাইবার— সব ক্ষেত্রে ইরান প্রস্তুত। শত্রুর নতুন হুমকির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর, শাস্তিমূলক এবং ধ্বংসাত্মক জবাব দেব।’’


ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানকে ‘লাইফলাইন’ দিচ্ছে, এমন যে কোনও দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা পদক্ষেপ করবে। তাদের ফল ভুগতে হবে। অর্থনৈতিক ভাবে ওই সমস্ত দেশের উপর চাপ তৈরি করার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বেসেন্ট জানান, যে বিধিনিষেধের পরিকল্পনা রয়েছে, তা সোমবার বিশদে ব্যাখ্যা করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত পরোক্ষে সাহায্য করছে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। ভারতের উপর চড়া হারে শুল্কও আরোপ করেছিলেন। ইরানের ক্ষেত্রে কোন কোন দেশের উপর কোপ পড়ে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।


গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে সে দেশের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। এর পরেই পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হয় সংঘর্ষ। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী জাহাজে হামলাও হয়েছে বিস্তর। যত দিন এগিয়েছে, সংঘাত বেড়েছে। পাকিস্তান-সহ একাধিক দেশ আমেরিকা, ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


কিন্তু এখনও সমাধানসূত্র মেলেনি। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন আলি খামেনেইয়ের পুত্র মোজতবা খামেনেই। কিন্তু দেশটির এই নেতৃত্বকেই সরিয়ে দিতে চান ট্রাম্প। ইরান যাতে কোনও ভাবেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধ তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তেহরানও অনড়। এর মধ্যে আমেরিকার নতুন অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।


তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন