রাণীনগরের পথে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকায় আনসার-ভিডিপির সদস্যরা
নওগাঁর রাণীনগরে যানজট নিরসনে ও আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে নিজেদের দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলেন আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা। চলতি ইদে রাণীনগরের গলার কাটা রেলগেটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হওয়ার কারণে ভোগান্তি ছাড়াই ইদের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও দায়িত্বরত আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে চলাচলকারী পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম জানান, প্রতি ইদে যানবাহন ও পথচারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং পর্যটন এলাকা পাখি পল্লীতে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের কারণে রাণীনগরের রেলগেটে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের সৃষ্টি হতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। অনেকেই যানজটের কবলে পড়ে গন্তব্যে যেতে পারতেন না। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পন্ন ভিন্ন ছিলো। ইদের দিন থেকে রেলগেটে ও পর্যটন এলাকা পাখি পল্লীতে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা নিয়োজিত থাকার কারণে কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি এবং পাখি পল্লীতেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি। এবার রাণীনগরে ইদের যাতায়াত ছিলো সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও যানজটমুক্ত। এমন উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার সঙ্গে জড়িতদের সকলের প্রতি রইলো কৃতজ্ঞতা।
জেলার মহাদেবপুর থেকে পাখি পল্লীতে আসা দর্শনার্থী মো. রায়হান ইসলাম জানান, বিগত ইদে পাখি পল্লীতে যাওয়ার সময় রেলগেটে সৃষ্টি হওয়া যানজটের কবলে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো। কিন্তু এবার ইদের চিত্র সম্পন্ন আলাদা। যে সকল আনসার ও ভিডিপির সদস্যের ভাইয়েরা পরিবারের সঙ্গে ইদের আনন্দ না কাটিয়ে তপ্ত রোদকে উপেক্ষা করে পথচারী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের প্রতি রইলো ভালোবাসাসহ কৃতজ্ঞতা। এমন কর্মকাণ্ডের জন্য রাণীনগরের পর্যটন এলাকা পাখি পল্লীর প্রতি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে। রাজপথ ও পাখি পল্লীতে সুশৃঙ্খল পরিবেশ উপহার দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ।
দায়িত্বরত আনসার ও ভিডিপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন জানান, নিজের ইদ আনন্দ বিলীন করে নির্বিঘ্নে হাজার হাজার মানুষের ইদ আনন্দ উপভোগের সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরে তিনি ধন্য। প্রতি ইদেই রেলগেটের যানজটের কবলে পড়ে শত শত পথচারীদের ইদ আনন্দ মলিন হতো। এমন দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পেতেই ইউএনও স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে আমরা আনসার ও ভিডিপির কয়েকজন সদস্যরা বৃহৎ স্বার্থে নিজেদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। আগামীতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান সাদ্দাম হোসেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান, ইদের সময় উপজেলার রেলগেট দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায়। ট্রেন যাওয়ার সময় গেট পড়লে অপরিকল্পিত ভাবে যানবাহন প্রবেশ করার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে করে চলাচলকারী হাজার হাজার পথচারীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো। প্রতি ইদের সময় রেলগেটে যেন যানজট নামক দুর্ভোগের সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্যে ইদের দিন থেকে চারদিনের জন্য চার আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিয়োজিত করা হয়েছিলো। স্থানীয়দের ও চলাচলকারী পথচারীদের সহযোগিতা নিয়ে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব সুনিপূন ভাবে পালন করার কারণে এবার যানজটমুক্ত পরিবেশে ইদ উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে।
অপরদিকে, উপজেলার একমাত্র পর্যটন এলাকা পাখি পল্লীতে যেতে হলে রেলগেট পার হতে হয়। এছাড়া ইদের কয়েকদিন পাখি পল্লীতেও হাজার হাজার দর্শনার্থী ও পর্যটকদের আগমন ঘটে। পাখি পল্লী এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে যানবাহন রাখার কারণে যেন কোনো যানজটের সৃষ্টি না হয়, পাখি পল্লী এলাকায় এসে কোন পর্যটক যেন কারো দ্বারা হেনস্থার শিকার না হয়, কেউ যেন উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে সুন্দর পরিবেশ নষ্ট না করে- এক কথায় পাখি পল্লীর নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশ বজায় রাখতে ইদের দিন থেকে পরবর্তি চারদিনের জন্য চারজন আনসার ও ভিডিপির সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছিলো। যার কারণে এবার ইদে সুচারু পরিবেশে পাখি পল্লীতে পর্যটকরা এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা সময় অতিবাহিত করতে পেরেছেন। আগামীতে পাখি পল্লীর আরো আধুনিকায়ন, সুন্দর পরিবেশ বিনির্মাণ করতে ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানান এই কর্মকর্তা।