মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যু: এসি বন্ধসহ তদন্তে আরও যা উঠে এলো

সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ জুন ২০২৬ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ০৪ জুন ২০২৬ ০৯:৩৬ অপরাহ্ন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যু: এসি বন্ধসহ তদন্তে আরও যা উঠে এলো
ফাইল ছবি

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর জন্য দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকাসহ দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।


বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে মন্ত্রী এ কথা জানান। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ২৭ মে মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬টি নবজাতক শিশুর মৃত্যু ঘটে। তদন্ত কমিটি হাসপাতালটি পরিদর্শনপূর্বক ঐক্যমত পোষণ করেন যে, ভবনটি হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটির নিকট সংশ্লিষ্ট পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নাম্বার-২ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ শেষে প্রতীয়মান হয়, কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন কার্যক্রম না থাকায় অক্সিজেনের মাত্রার ঘাটতি হয়েছে ও পক্ষান্তরে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল।


তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সংশ্লিষ্ট কক্ষের দায়িত্বরত সকল সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের বক্তব্যে প্রমাণ পেয়েছে দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নবজাতকের আকস্মিক শারীরিক অবনতি হলে হাসপাতালে সক্রিয় ইমারজেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না।


অভিভাবকদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নার্স কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত না করে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এমনকি নবজাতকদের মৃত্যুরোধে প্রয়োজনীয় উপযুক্ত যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়নি।


প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ওই কক্ষটি প্রায় ৯০০ বর্গফুট, যেখানে ১১ জন নবজাতক এবং রোগীর লোকসহ প্রায় ৫০ জনের উপস্থিতি ছিল, যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তদন্ত কমিটি হাসপাতালের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রমাণ পেয়েছে যে, বিদ্যমান প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ একটি হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্তাবলি পালনে সক্ষম ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ ভর্তি রোগীদের দেখাশোনার জন্য কোনো চিকিৎসক ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড-২ এ দায়িত্বরত সেবিকাদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়নি। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড নাম্বার-২ এ আলো বাতাস চলাচলের ভেন্টিলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রোগী, নবজাতক রোগীর অ্যাটেন্ডেন্টসহ অতিরিক্ত সংখ্যক জনবলের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি।


তিনি বলেন, হাসপাতালটির ভিতরে যত্রতত্রভাবে কাঁচের ছোট ছোট কক্ষ নির্মাণের ফলে হাসপাতালটি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ প্রতীয়মান হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তদন্ত কমিটি মনে করে, ভবিষ্যতে বেসরকারি হাসপাতালের নতুন লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যবহৃত ভবন পরিদর্শনপূর্বক পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি গ্রহণ বাধ্যতামূলক হিসেবে শর্তারোপ করা প্রয়োজন।


ছয় শিশুর মৃত্যুর যে কারণ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে তা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যদিও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বের করা সম্ভব নয়, তথাপি পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বিভিন্ন ব্যক্তিদের বক্তব্য ও জবানবন্দি থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ছোট বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, যা নবজাতক শিশুর দীর্ঘ সময় টিকে থাকার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।


তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে? জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে, আপনাদের সামনে পড়ে শোনানো হয়েছে। এখন আমরা এই প্রতিবেদন নিয়ে বসব। বসে বিদ্যমান আইনে যে শাস্তি দেওয়া যায়, আমরা সেটাই করব। আমার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস আমরা যেই কঠিনভাবে এটা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি, যেই তড়িৎ গতিতে যাচ্ছি, আপনাদেরও সহযোগিতা আছে—আমার দৃঢ় বিশ্বাস পরবর্তীতে আমরা যে কার্যক্রম গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যেভাবে প্রত্যেকটা হাসপাতাল পরিদর্শনের জন্য আমরা চিন্তা-ভাবনা করে স্থির করেছি... যেভাবে আমাদের পরিদর্শন কার্যক্রম সাজাচ্ছি আর যেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই ধরনের সাহস আর কেউ পাবে না। এরকম বদ্ধ ঘরে শিশু বা মানুষ রাখার সাহস আর কেউ পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ