দুর্গাপুরে সবজির দামে ক্রেতা খুশি, উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক
রাজশাহী দুর্গাপুরে ইদের পর থেকেই কমেছে সকাল প্রকার শাক-সবজির দাম। ক্রেতারা দামে খুশি থাকলেও লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এ অঞ্চলের কৃষকরা বলছেন তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে লেবার খরচ উঠেছে না। বর্তমানে দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি সজবি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকার নিচে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার দুর্গাপুর সিংগা হাটে বেগুন মানভেদে প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি যা খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, করলা পাইকারি ১৫ টাকা কেজির মধ্যে যা খুচরা ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁকরোল পাইকারি ২০ টাকা যা খুচরা বাজারে ৩০ টাকা, ঝিঙা পাইকারি ৮ টাকা কেজি যা খুচরা বাজারে ১৫ টাকা, ঢেঁড়স পাইকারি ৫ টাকা যা খুচরা বাজারে ১৫ টাকা, পটোল পাইকারি ১০ টাকা যা খুচরা বাজারে ১৫ টাকা, কচু পাইকারি ২৫ টাকা খুচরা বাজারে ৩৫ টাকা, পেঁপে পাইকারি ১২ টাকা খুচরা ২০ টাকা, লম্বা লাউ প্রতি পিস পাইকারি ৭ টাকা খুচরা ২০ টাকা, চালকুমড়া পাইকারি ১৫ টাকা খুচরা ২৫ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও লাল শাক ১০ টাকা, পুঁই শাক ১০ টাকা ও কাঠুয়া ডাটা ১০ টাকা মুঠা বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বেড়েছে আলুর দাম। বর্তমানে আলুর মানভেদে ডায়মন্ড ও কার্ডিনাল আলু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা। আর ছোট দেশি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।
গতকাল বুধবার সিংগা হাটে পটোল বিক্রি করতে আসা কানপাড়া গ্রামের আমির আলী বলেন, তিনি ২ মণ পটল বাজারে নিয়ে এসে পাইকেরি বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা মণ হিসেবে। যা প্রতি কেজি সাড়ে ৭টাকা পড়েছে। দুইমণ পটল সুধু মাঠ থেকে তুলে বিক্রি করতে লেবার খরচ,গাড়ি ভাড়া ও খাজনাবাবদ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৪৬০ টাকা। তিনি বলেন এমন দামে পটোল বিক্রি করলে তার অন্তত ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে।
কয়েকজন ক্রেতা জানান, ইদের পর থেকেই সবজির দাম অনেক কম। ২০ টাকা কেজির মধ্যেই বিভিন্ন সবজি পাওয়া যাচ্ছে। যেটা ইদের আগে ছিলো ৫০ টাকা কেজি সেটা এখন ২০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও মুরগির ও মাছের দামও অনেকটাই কম। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি খামার থেকে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি যা খুচরা বাজারে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি মানভেদে পাইবারি ২২০ টাকা কেজি যা খুচরা দোকানে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে দেশি মুরগির দাম। যা বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে দুই কেজি ওজনের রুই মাছ আড়তে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা কেজি যা খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়াও তিন কেজির ওপরে কতল পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। আর দেশি বিভিন্ন প্রকার মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
মাছ ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, ইদের পর ৫-৭দিন মাছের বাজার অনেক চাড়া ছিলো। বর্তমানে মাছের বাজার আবার আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। মাছের দাম ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে অনেক ক্রেতা ও বিক্রেতারা মনে করেন, সবজির বাজার ক্রেতা ও বিক্রিতা উভয়ের জন্যই বাজার সহনশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়া অত্যান্ত জরুরি। সাধারণ মানুষ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য রাখা এবং অন্যদিকে প্রন্তিক কৃষক বা ব্যবসায়ীদের ন্যায্য মুনাফা নিশ্চিত করা একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি। যা সবার জন্য স্বস্তিদায়ক।