মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আজ

ফুটবল উন্মাদনায় নগর-গ্রাম জনপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ জুন ২০২৬ ১১:৫১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ জুন ২০২৬ ১১:৫১ অপরাহ্ন
ফুটবল উন্মাদনায় নগর-গ্রাম জনপদ

বিশ্বকাপ মানেই শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়, এটি আবেগ, পরিচয় আর উৎসবের। প্রিয় দলের পতাকা হাতে নেওয়া কিংবা জার্সি গায়ে চাপানো যেন নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করা। লাল-সবুজ, নীল-সাদা বা হলুদ-সবুজ রঙে রাঙা সমর্থকদের স্বপ্ন আর ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।


ফুটপাতের ছোট থেকে বড় বড় দোকান সবখানেই দেখা যায় একই উচ্ছ্বাস। কেউ জার্সি কিনছেন বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার জন্য, কেউ বা পতাকা তুলছেন বাড়ির ছাদে উড়ানোর আশায়। 


বিশ্বকাপের উত্তেজনা মাঠের বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে নগরীর অলিগলিতে। খেলা শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে পতাকা ও জার্সির বেচাকেনা। রাজশাহীর নিউমার্কেট, সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, ফুটপাত ও অনলাইনÑসবখানেই প্রিয় দলের রঙে সাজছে দোকানপাট। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের জনপ্রিয় দলগুলোর পতাকা ও জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যাচ্ছে।


পতাকা ও জার্সির মধ্য দিয়েই মাঠের বাইরের মানুষগুলোও যেন খেলায় নিজেদের অংশগ্রহণ খুঁজে পান। বিশ্বকাপ এলেই কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে এই বাজার চাঙা হয়ে ওঠে। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যা আরও বেড়েছে। 


নগরীর ফুটপাতসহ দোকানগুলোতে ঝুলছে সারি সারি বিভিন্ন দেশের পতাকা। বিক্রি হচ্ছে জার্সিও। বাজারে পতাকার দাম সাধারণত এর আকার, কাপড়ের মান এবং দেশের জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি পতাকার দাম আকার ও মানভেদে ভিন্ন। সাধারণ মানের পতাকা ২৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ ফুট তিন ফুট আকারের পতাকা তুলনামূলক বেশি জনপ্রিয়। বড় আকারের ব্যানারফ্ল্যাগের দাম আরও বেশি।


বাজারে সাধারণ ব্যবহারের জন্য জার্সি পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, যা সাধারণ পোশাক হিসেবেও বেছে নিচ্ছেন। এছাড়া পছন্দের দেশের মাঝারি মানের ‘নরমাল ফ্যান জার্সি’ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর যারা একদম আসল জার্সির কাছাকাছি স্বাদ চান, তাদের জন্য রয়েছে প্রিমিয়াম বা থাই কোয়ালিটির জার্সি। উন্নত মানের কাপড় ও নিখুঁত লোগোসংবলিত এই জার্সিগুলোর দাম ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 


নগরীর সাহেবাজারের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দলের জার্সি। এগুলো কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে এখান থেকে 


সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ফুটপাতে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল দলের জার্সি বিক্রি করছেন রাসেল আলী। সারা বছর শিশুদের পোশাক বিক্রি করলেও বিশ্বকাপ এলেই তিনি জার্সির ব্যবসা শুরু করেন। তিনি বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এক মাস আগে থেকেই জার্সি বিক্রি শুরু করেছেন। তবে আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় এবার বিক্রি কিছুটা কম। ইদের আগে বিক্রি ভালো হলেও এখন ক্রেতা কিছুটা কম। আমার কাছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি আছে। সাধারণ মানের জার্সি ১৫০ টাকা আর প্লেয়ার ভার্সনের জার্সি ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছি। আর্জেন্টিনার জার্সিই বেশি বিক্রি হচ্ছে।


নিজের বাচ্চাদের জন্য জার্সি কিনতে এসেছেন আরাফাত হোসেন। তিনি বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। প্রতিবেশি শিশুদের কাছে জার্সি দেখে জেদ করছে। তাই তাদের জন্য জার্সি কিনতে এসেছি। তবে বাচ্চাদের চেয়ে বড়দের জার্সির দাম কম। বাচ্চাদের দাম বেশি। 


নগরীর কাপড়পট্টিতে পতাকার কাপড় কিনছিলেন রেদওয়ান আহমেদ। যে পতাকাগুলো বিক্রি হচ্ছে তার বেশি। তাই কাপড় কিনে দর্জি দিয়ে সেলাই করিয়ে নিচ্ছি। তারা যে দাম চাচ্ছে পতাকার তার চেয়ে দ্বিগুন পতাকা বানানো হচ্ছে।