মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

রূপপুর প্রকল্পে জ¦ালানি লোডিংয়ের পর ত্রুটি : পরীক্ষামূলক কাজ বন্ধ : এনপিসিবিএল এর ভাষ্য ‘উদ্বেগজনক নয়’

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ১৫ জুন ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
রূপপুর প্রকল্পে জ¦ালানি লোডিংয়ের পর ত্রুটি : পরীক্ষামূলক কাজ বন্ধ : এনপিসিবিএল এর ভাষ্য ‘উদ্বেগজনক নয়’

পাবনার ঈশ্বরদীতে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের এক নম্বর ইউনিটে জ¦ালানি লোডিঙের পর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর সময় কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ কারণে প্রকল্পে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সোমবার (১৫ জুন) এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে এ ত্রুটি ‘উদ্বেগজনক নয়’। 


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলাকালে শনাক্ত হওয়া একটি কারিগরি বিচ্যুতি নিয়ে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হওয়ার কানো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন রূপপুর প্রকল্পের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)। সংস্থাটির মতে, বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে এ ধরনের ক্ষুদ্র ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করা কমিশনিং প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক এবং বাধ্যতামূলক অংশ।


এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমকে বলেন, “নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে একাধিক নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এসব পরীক্ষায় সামান্য বিচ্যুতি শনাক্ত হওয়া বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতারই প্রমাণ।


তিনি বলেন, সেকেন্ডারি সার্কিটে ৮.১ মেগাপাস্কাল (এমপিএ) চাপে পরিচালিত ‘লিক-টাইটনেস টেস্ট’ একটি বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত পরীক্ষা, যা প্রতিবার কেন্দ্র শাটডাউন অবস্থা থেকে অপারেশনাল অবস্থায় যাওয়ার সময় সম্পন্ন করা হয়। পারমাণবিক ও বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্পে এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া।


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান ত্রুটিটি ছোট এবং এটি দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চুড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শীতলীকরণ পরীক্ষার সময় ত্রুটি ধরা পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। এর আগে জ্বালানি লোডিঙের আগের পরীক্ষায় রিঅ্যাক্টর কুলিং পাম্পে ত্রুটি ধরা পড়েছিল, যার কারণে তখনও কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।


রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রসাটমে’র এক এক প্রতিনিধি বলেন, এ ধরনের সমস্যা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে স্বাভাবিক। এই ধাপের মূল উদ্দেশ্যই হলো ত্রুটি খুঁজে বের করে তা ঠিক করা। এ ক্ষেত্রে সমস্যাটি বড় নয়। মেরামতের কাজ চলছে। এটি ঠিক হলে আবার পরীক্ষা শুরু করা হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, এই ধরনের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ছোটখাটো সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক এবং এতে উদ্বেগের কিছু নেই। সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরমাণু বিজ্ঞানী ড. শফিকুল ইসলাম এ সম্পর্কে বলেন, জ্বালানি লোডিং বা কমিশনিং পর্যায়ে এ ধরনের ক্ষুদ্র কারিগরি বিষয় শনাক্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে প্ল্যান্ট শাটডাউন করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের নয়।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর প্রকল্পকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তুলতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রথম প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের ওপর ভিত্তি করে রূপপুরে আরও দুটি নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। 


রূপপুর প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে কমিশনিং কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও প্রস্তুুতিমূলক কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।


পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই বছরের জুনে দ্বিতীয় ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হবে এবং সেপ্টেম্বরে দুটি ইউনিট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।