বদলগাছী কৃষি অফিসে আম-কাঁঠাল-লিচুর ফলের উৎসব
‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’- গ্রীষ্মের শেষ আর বর্ষার শুরুর এই সময়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা আম, কাঁঠাল, লিচু ও জামরুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। সেই মধুমাসের রঙ, স্বাদ ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে নওগাঁর বদলগাছীতে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফল উৎসব। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিসের হলরুমে ফল উৎসবের আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
এ সময় উপজেলা কৃষি অফিসার সাবাব ফারহান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। উৎসবস্থলে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে সারি সারি দেশীয় ফলের সমারোহ। নাকফজলি আম, কাঁঠাল, লিচু, কালোজাম, জামরুল, পেয়ারা, আতা, সফেদা, করমচা, বেল, আনারসসহ ৪২ জাতের মৌসুমি ফল দিয়ে সাজানো হয় প্রদর্শনী। প্রতিটি ফলের পুষ্টিগুণ, উৎপাদন পদ্ধতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয় দর্শনার্থীদের সামনে।
আয়োজকেরা জানান, বিদেশি ফলের প্রতি বাড়তি ঝোঁকের কারণে অনেক দেশীয় ফল এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। মধু মাসে নানা রকম ফল বাজারে উঠতে শুরু করেছে। ফলের স্থায়ী বাজার ও সংরক্ষণ কিভাবে করা যাবে এসব বিষয়ে কৃষকদের সাথে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ফলভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং পুষ্টি সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বদলগাছী উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া ফল ও বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে ধান, আম, কাঁঠাল ও সবজি উৎপাদনে এ অঞ্চলের কৃষকেরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। ফলভিত্তিক কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কৃষকদের নানা ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দেশীয় ফল সম্পর্কে নতুন তথ্য জানতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। অনেকেই বলেন, বইয়ের পাতায় দেখা ফলগুলো একসঙ্গে কাছ থেকে দেখার সুযোগ তাদের আগে হয়নি।
এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি পলাশ উদ্দিন,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন নাজমুল হোসেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী রন্জন কুমার প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।