রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

কাগজের টাকার ইতিহাস: কীভাবে এই দেশ থেকে বিশ্বজুড়ে শুরু হল নোটের প্রচলন?

সোনার দেশ ডেস্ক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫০ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০২:৫০ অপরাহ্ন
কাগজের টাকার ইতিহাস: কীভাবে এই দেশ থেকে বিশ্বজুড়ে শুরু হল নোটের প্রচলন?


সোনার দেশ ডেস্ক 

আধুনিক যুগে কাগজের মুদ্রা বা নোট ছাড়া জীবন কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু জানেন কি, এই কাগজের টাকার সূচনা কীভাবে হয়েছিল? মধ্যযুগে যখন বিশ্বজুড়ে সোনা, রূপো বা ধাতব মুদ্রার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য চলত, তখন ভারী মুদ্রা বহনের ঝক্কি এড়াতেই জন্ম হয়েছিল কাগজের মুদ্রার। মানবোন্নয়নের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম একটি যুগান্তকারী মাইলফলক।

বিশ্বের প্রথম কাগজের মুদ্রা: চিনের ‘জিয়াওজি’

একাদশ শতাব্দীর শুরুতে চিনের সং রাজংশের সময় বিশ্বে প্রথম কাগজের মুদ্রার প্রচলন ঘটে। চিনের সিচুয়ান প্রদেশের ব্যবসায়ীরা প্রথম ভারী ধাতব মুদ্রার বিকল্প হিসেবে এক ধরণের কাগজ ব্যবহার করতে শুরু করেন, যাকে বলা হত ‘জিয়াওজি’ ।

ধাতব মুদ্রার তীব্র সংকট এবং দূর-দূরান্তে ভারী মুদ্রা বহন করার অসুবিধা থেকে বাঁচতেই এই উদ্ভাবন। ১০২৩ খ্রীস্টাব্দ নাগাদ সং রাজতন্ত্রের তৎকালীন শাসক বা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই জিয়াওজি ইস্যু করা শুরু করে, যা ছিল বিশ্বের প্রথম সরকারি ব্যাংকনোট বা কাগজের টাকা। পরবর্তীতে ইউয়ান রাজবংশের সম্রাট কুবলাই খান এই ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত রূপ দেন এবং সমগ্র সাম্রাজ্যে কাগজের মুদ্রার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেন।

চিনের এই অভিনব আবিষ্কারের কথা প্রথম ইউরোপীয়দের কাছে পৌঁছায় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে বিখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলোর ভ্রমণকাহিনীর মাধ্যমে। তবে শুরুতে ইউরোপীয়রা কাগজের মুদ্রার স্থায়িত্ব ও মান নিয়ে বেশ সংশয় প্রকাশ করেছিল।

পরবর্তীতে ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে বিশ্ব বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাতু বা মুদ্রার চরম অভাব দেখা দেয়। ফলে বাধ্য হয়েই ইউরোপের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কাগজের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সপ্তদশ শতাব্দীতে সুইডেন প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব কাগজের মুদ্রা চালু করে। এরপর আস্তে আস্তে ইউরোপীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটে এবং কাগজের টাকা বিশ্বজুড়ে প্রধান বিনিময় মাধ্যম হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে।

চিনের সং রাজবংশের ছোট একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আজ বিশ্বের প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধাতু থেকে কাগজে রূপান্তরের এই ইতিহাস প্রমাণ করে যে, মানবসভ্যতার বাণিজ্যিক প্রয়োজনই নতুন নতুন প্রযুক্তির জন্ম দেয়।

তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন