সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ফেনীতে নুসরাত হত্যা: হাই কোর্টে ২ জনের ফাঁসি বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ১০

সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
ফেনীতে নুসরাত হত্যা: হাই কোর্টে ২ জনের ফাঁসি বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন, খালাস ১০

সাত বছর আগে ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রেখেছে হাই কোর্ট। এছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।


নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।


যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।


খালাস প্রাপ্তরা হলেন—সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহ-সভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।


২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।


এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন নুসরাত।


ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মুক্তি দাবিতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ও মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী মানববন্ধনে নামে। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হয় নুসরাতের পরিবারকে।


মৃত্যুর আগে ৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকদের কাছে জবানবন্দিতেও অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যান এই তরুণী।


নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম দিয়ে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়।


প্রথমে সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই বছরের ২৯ মে পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।


হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।


২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।


অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন হাই কোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।


১৪ জুন বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। এ হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হল।


এদিকে যৌন হয়রানির ঘটনায় নুসরাতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার ছায়েদুল হক সুমন আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন।


এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত ওসি মোয়াজ্জেমকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ