নগরীতে কিশোর গ্যাঙের দৌরাত্ম্য
সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাই
কিশোর গ্যাঙের উত্থান দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্য হয়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা গভীর হয়েছে। অপরাধ জগতে কিশোর গ্যাং নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা বহুগুণ গতি পেয়েছে, তেমনি নিরাপত্তার সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকার কিশোর গ্যাঙের বিরুদ্ধে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে, গ্রেফতারও হয়েছে অনেক কিন্তু পরিস্থিতির খুব উন্নতি হয়েছে- তা বলা যাচ্ছে না।
দেশের অন্যান্য স্থানের মত রাজশাহীতে কিশোর গ্যাঙের দৌরাত্ম কোনো অংশেই কম নয়। এরা নাগরিক জীবন অস্থির করে তুলেছে, ভয়-আতঙ্কের আবহ তৈরি করেছে। স্বয়ং পুলিশ সূত্র বলছে- রাজশাহী নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেই কিশোর অপরাধী চক্রের উপস্থিতি রয়েছে। সক্রিয় গ্রুপের সংখ্যা অন্তত ৩৫ এবং সদস্য পাঁচ শতাধিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব চক্রের মধ্যে টেন স্টার বয়, রাইজিং বয়, অদম্য বালক, গলি বয়, হিটার বয়েজ, নেকসাস, মায়া, ফালতু, সিংহাম, প্লাস্টিক, ডি-হট বয় ও বুলেট গ্যাঙের নাম এসেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্যমতে, কিশোর গ্যাং শুধুই কিশোরদের বিষয় নয়- এর সাথে রয়েছে পৃষ্ঠপোষকতা, বড়দের আশ্রয়-প্রশ্রয় আর নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্ব প্রভাশালীর কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থন্বেষীদের। সাধারণত নেপথ্যের এই শক্তি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা যায় কিন্তু তেমন রাজনৈতিক সদিচ্ছার বড়ই অভাব আছে।
তবে এটা উপলুব্ধ হচ্ছে যে, কিশোর গ্যাঙের অপরাধ জগতের দ্রুত অবসান হওয়া বাঞ্ছনীয়। কেননা এই কিশোরদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে অপরাধ জগৎ আরো সংগঠিত হয়ে উঠবে। এই কিশোর অপরাধীরাই এক পর্যায়ে অপরাধ জগতের ডন হয়ে বসবে। সেই রকমের পরিস্থিতি কারোরই কাম্য নয়। সমস্যাটি সামাজিক, তা সামজিকভাবেই নিরসন করা গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য খুবই প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। এই সদিচ্ছাই কেবল স্থানীয় প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় বা পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে পারে। অভিভাবকদের মধ্যে যে অসতর্কতা, প্রশ্রয় লক্ষ করা যায়- সে ব্যাপরে সচেতন করে তুলতে প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন হবে। সমস্যা সমাধানে সমাজের সম্পৃক্ততা ছাড়া কিশোর গ্যাঙের মত দুর্যোগ থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষা দেয়া যাবে না।