শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুরছানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত নারী

WP Import ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৪৪ অপরাহ্ন
WP Import ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৪৪ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুরছানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত নারী
ঈশ্বরদীতে ৮ কুকুরছানা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত নারী

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


পাবনার ঈশ্বরদীতে বাসার দরজার সামনে ‘ডাকাডাকি’ করার কারণে বিরক্ত হয়ে বস্তায় ভরে উপজেলা পরিষদের পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে একটি পোষা কুকুরের ৮টি কুকুরছানাকে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা ও অভিযুক্ত নারী নিশি রহমান (৩৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।

মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে তাকে শহরের পিয়ারপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর)তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার ৮। তিনি জানান, ‘প্রাণী কল্যাণ আইন’২০১৯ এর ৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ঈশ্বরদীর ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী নিশি রহমানকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

’ ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঢাকা থেকে আসা ‘পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার’ এর চেয়ারপার্সন মো. রাকিবুল হক অমিত, সদস্য সাজেদুল ইসলাম শিশির, সমাজকর্মী মোশাররফ হোসেন মুসা, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিম রহমান প্রাপ্তিসহ ঈশ্বরদীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রায় অর্ধশত মানুষের উপস্থিতিতে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

মামলার বাদী ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘ঘটনাটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়েছে। একারণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার আমাকে ফোন করে বলেছেন, এই ঘটনা অমানবিক। এই ঘটনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। তাই প্রাণী হত্যায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মহোদয়ও আমাকে ফোন করে মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছেন।’ এছাড়া ‘পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার’ এর চেয়ারপার্সনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ দফায় দফায় গত দুদিন ধরে মামলা ও অভিযুক্ত নারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জাানিয়ে আসছিলেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘৮ কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নকে গেজেটেড সরকারি কোয়ার্টার ছাড়তে লিখিত নির্দেশ এবং কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়ার পর তারা সরকারি বাসা ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। মামলার পর আসামীও গ্রেপ্তার হয়েছেন।

জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলার সদ্য বদলি হওয়া নির্বাহী অফিসার সুবির কুমার দাশের পোষা কুকুর ছিল মা কুকুরটি। ঈশ্বরদী থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত সুবির কুমার দাশ মুঠোফোনে জানান, আমি ঈশ্বরদী থেকে কিছুদিন হলো ঝিনাইদহে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে এলেও আমার কুকুরগুলোকে ঠিকমতো খাওয়া ও লালন পালন করার ব্যবস্থা ঈশ্বরদীতেই করা ছিল। বদলী হয়ে আসার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওদের ঝিনাইদহে আনতে পারিনি। কুকুর ছানাগুলোকে হত্যা করার খবর শুনে আমি মর্মাহত হয়েছি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একমাত্র আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে জেনে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তার নিশি আকতার বলেন, কুকুর ছানাগুলো আমাদের বাসার সিঁড়ির পাশে থাকতো এবং খুব ডিস্টার্ব করত। তাই আমি বাজারের ব্যাগে ভরে পুকুরের পাশে একটি গাছের গোড়ায় রেখে আসি। আমি নিজে ছানাগুলোকে পুকুরে ফেলিনি। কীভাবে পুকুরে পড়ে মারা গেছে আমি তা জানি না।

প্রসঙ্গতঃ গত সোমবার সকালে মৃত ৮ কুকুর ছানার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। জড়িত নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাতে থাকেন নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাড়ির কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সোমবার সকালে নয়ন স্যার মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। আমি ছানাগুলোর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু জানেন না বলেন। তখন তার ছেলে বলে ‘আম্মু ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।’ এরপর আমরা পুকুরে গিয়ে একটি বস্তা ভাসতে দেখি। বস্তা তুলে আটটি ছানাকেই মৃত অবস্থায় পাই।