ঈশ্বরদীতে কর্মকর্তার স্ত্রীর ৮ কুকুর ছানাকে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা হত্যা করলেন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে শোকজ : সরকারি বাসা থেকে প্রত্যাহার
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
বাসার দরজার সামনে ডাকাডাকি করার কারণে বিরক্ত হয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে বস্তায় ভরে উপজেলা পরিষদের পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে একটি পোষা কুকুরের ৮টি কুকুরছানাকে মেরে ফেলেছেন এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম নিশি রহমান। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা পরিষদে জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তাকে সপরিবারে উপজেলা পরিষদের সরকারি বাসা থেকে অব্যাহতি প্রদানের নির্দেশ এবং কারণ দর্শানের নোটিশ প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন।
৮টি ছানার মৃত্যুতে মা কুকুরের চিৎকার ও কান্নার দৃশ্য দেখে স্থানীয়রাও আবেগাপ্লপুত হয়ে পড়েন।
মা কুকুর ও কুকুরছানাগুলোÑ ঈশ্বরদী উপজেলার সদ্য বদলি হওয়া নির্বাহী অফিসার সুবির কুমার দাশের পোষা কুকুর ছিল। ঈশ্বরদী থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত সুবির কুমার দাশ মুঠোফোনে জানান, আমি ঈশ্বরদী থেকে কিছুদিন হলো ঝিনাইদহে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়ে এলেও আমার কুকুরগুলোকে ঠিকমতো খাওয়া ও লালন পালন করার ব্যবস্থা ঈশ্বরদীতেই করা ছিল। বদলি হয়ে আসার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ওদের ঝিনাইদহে আনতে পারিনি। সকালে কুকুর ছানাগুলোকে হত্যা করার খবর শুনে আমি মর্মাহত হয়েছি। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উপজেলার সকল কর্মকর্তাদের ডেকে জরুরি বৈঠক করে অভিযুক্ত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নকে উপজেলা পরিষদের বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। এ বিষয়ে হাসানুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী বিরক্ত হয়ে কুকুর ছানাগুলোকে একটি বস্তায় ভরে বস্তার মুখ বেঁধে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ফেলে মেরে ফেলেছে। আমি তার পক্ষ থেকে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। অভিযুক্ত নিশি রহমান এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তবে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, কুকুরছানাগুলোকে মেরে ফেলার ঘটনার পরপরই উপজেলা পরিষদে জরুরি বৈঠকে আমিও উপস্থিত ছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।