শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য কোন কোন দেশ সবথেকে বেশি দায়ী, ভারতের স্থান কোথায়

WP Import ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪২ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
WP Import ০৪ অক্টোবর ২০২৫ ০৮:৪২ অপরাহ্ন
বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য কোন কোন দেশ সবথেকে বেশি দায়ী, ভারতের স্থান কোথায়
বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য কোন কোন দেশ সবথেকে বেশি দায়ী, ভারতের স্থান কোথায়

সোনার দেশ ডেস্ক:


বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইডগার (ঊউএঅজ)–এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩.২ গিগাটন ঈঙ₂–সমতুল্য। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি দেশই বিশ্বের একটি বড় অংশের নির্গমনের জন্য দায়ী। নিচে ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ ৭ নির্গমনকারী দেশের অবস্থান দেওয়া হল

৭. ভিয়েতনাম
দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভিয়েতনামের কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ৫৮৪.২৬ মেগাটন ঈঙ₂ নির্গমন করেছে, যা বিশ্বের মোট নির্গমনের প্রায় ১.১০ শতাংশ। যদিও তালিকায় তুলনামূলকভাবে নিচে, তবুও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান নির্গমনকারী হিসেবে দেশটি নজরে এসেছে।

৬. জাপান
জাপানের নির্গমনের প্রধান কারণ হল জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা। তাদের বিদ্যুতের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর দেশটি বিকল্প হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায়। এর ফলে ২০২৪ সালে জাপানের মোট নির্গমন দাঁড়িয়েছে ১,০৬৩.৩৪ মেগাটন ঈঙ₂, যা বৈশ্বিকভাবে ষষ্ঠ স্থানে রেখেছে।

৫. ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার নির্গমন বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ হল বন উজাড় ও পিটভূমির আগুন, যা জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্বনকে বাতাসে ছেড়ে দেয়। একইসঙ্গে দেশটিতে কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও পরিবহন খাতেও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত বেশি। ইডগারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার নির্গমন দাঁড়ায় প্রায় ১,৩২৩.৭৮ মেগাটন ঈঙ₂–সমতুল্য।

৪. রাশিয়া
রাশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের প্রধান ভরকেন্দ্র জীবাশ্ম জ্বালানি। তেল, গ্যাস ও কয়লার অতিরিক্ত ব্যবহার ছাড়াও অদক্ষ বন ব্যবস্থাপনা ও সামরিক কার্যকলাপ দেশটির নির্গমন বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়া একাই ২,৫৭৫.৬৫ মেগাটন ঈঙ₂–সমতুল্য গ্যাস নির্গমন করেছে, যা মোট নির্গমনের ৪.৮৪ শতাংশ। ৩. ভারত
ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, বিপুল জনসংখ্যা এবং বিদ্যুতের জন্য প্রধানত কয়লার উপর নির্ভরতা দেশটির নির্গমন বৃদ্ধির মূল কারণ। পরিবহন খাতেও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ইডগার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের নির্গমনে অংশীদারিত্ব প্রায় ৮.২২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় ভারতের নির্গমন বৃদ্ধির হার অন্যতম সর্বোচ্চ।

২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের মোট নির্গমনের ১১.১১ শতাংশ অবদান রেখেছে। পরিবহন খাতে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার দেশটির প্রধান নির্গমন উৎস। ভোক্তা সংস্কৃতি, শিল্পোন্নয়ন, বাড়তি ভ্রমণ ও জ্বালানির চাহিদা এই নির্গমন আরও বাড়িয়েছে।

১. চিন
চিন এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় নির্গমনকারী দেশ। ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ১৫,৫৩৬.১০ মেগাটন ঈঙ₂ সমতুল্য গ্যাস নির্গমন করেছে, যা বিশ্বের নির্গমনের ২৯.২০ শতাংশ। শিল্প খাত, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও নির্মাণ শিল্পে ব্যাপক জ্বালানি ব্যবহার চীনের নির্গমনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
এই সাতটি দেশ একাই বিশ্বের অর্ধেকের বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা জরুরি হলেও, বড় নির্গমনকারী দেশগুলির দায়িত্ব অনেক বেশি। টেকসই জ্বালানি, বন সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পনীতির বিকল্প নেই—নাহলে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন