কিছুটা কমেছে সবজি দাম, ডিম দিচ্ছে স্বস্তি
পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। তবে এখনও আসেনি নাগালে মধ্যে। এছাড়াও বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজির দাম কিছু কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি কমেছে ডিমের দাম। এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। স্থিতিশীল আছে মাংসের দাম। দামে হেরফের হয়নি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার, নামো ভদ্রা, শালবাগান ও সাগরপাড়া ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্মের মুরগির লাল ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকাতে। আর সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকাতে।
প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে
খামারিরা শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। সাহেববাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে; তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।
বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু দাম কমেছে। বেগুনসহ যেসব সবজি ১০০ টাকার ওপরে কেজি বিক্রি হয়েছে, সেসব এখন মিলছে কম দামে। বর্তমানে বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০, করলা ৬০ থেকে ১০০, কাঁচামরিচ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি ও ফুলকপির পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলার কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢ্যাঁড়শের কেজি ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, কচুরলতি ৬০ টাকা, শিম রকমভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।
অন্যদিকে পালং শাক ১৫ টাকা আঁটি, কলমি শাক ১৫-২০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে পুঁইশাকের মৌসুম না হওয়ায় তা বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা সাজিদুল ইসলাম বলেন, দাম কম থাকার পরও ক্রেতারা দরদাম করে কিনতে চান। এমন হলে আমাদের লোকসান হয়ে যায়।
এদিকে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় কম হলেও এখনো হাতের নাগালে আসে নাই। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু পুরোনো পেঁয়াজ এখনও ১০০ টাকার কমে মিলছে না। এছাড়া নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও পুরনো আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।
সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। এর দাম সব সময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা ও আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে। এছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আকারে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, শীতে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়তে দাম বাড়তি, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
বাজার করতে আসা সিহাব বলেন, মাছের দাম বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে। ইলিশের দাম এখনো নাগালের বাইরে। আরেক ক্রেতা আলিম বলেন, মাছের দাম কমার লক্ষণ নেই। মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।
এদিকে মুদি দোকানীরা জানান, ২৯ জাতের নতুন চাল ৫৫-৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ টাকা, মিনিকেট ৭৫-৮০ টাকা, হাফ সিদ্ধ ৫৫ টাকা, চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকা কেজি দরে। বাজারে পোলাওয়ের চাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজিতে। পোলাওয়ের চালের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
বাজারে মোটা মসুর ডাল ৮০ টাকা, চিকনটা ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডালের দামও গেল সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চিনির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। গত সপ্তাহে চিনি ৯০-৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে, যা গেল সপ্তাহে ছিল ১৯৮ টাকা। সরিষার তেল ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজারে এলাচ ৫৫০-৬০০ টাকা প্রতি ১০০ গ্রাম, দারচিনি ৫৫-৬০ টাকা প্রতি ১০০ গ্রাম, জিরা ৭০-৮০ টাকা প্রতি ১০০ গ্রাম, লবঙ্গ প্রতি ১০০ গ্রাম ২০০ টাকা ও তেজপাতা ১০০-১৩০ টাকা প্রতিকেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারও গত সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির বাজারে সরবরাহ আরও বাড়িয়ে দাম কমাতে হবে। শরিফুল ইসলাম রিফাত নামে এক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দামই অতিরিক্ত। দাম কমছে না। দামের জন্য কম কম করে বাজার করছি।