মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬

শীতবস্ত্র নিয়ে আদিবাসী পল্লীতে নওগাঁর ডিসি, গণভোট সম্পর্কে জানলো আদিবাসীরা

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৫ অপরাহ্ন
শীতবস্ত্র নিয়ে আদিবাসী পল্লীতে নওগাঁর ডিসি, গণভোট সম্পর্কে জানলো আদিবাসীরা

চলতি শীত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে কনকনে হাড় কাঁপানো শীত। শীত মৌসুমে এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ৬ থেকে ১২ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল হাওয়া শীতের সেই তীব্রতাকে আরো কয়েকগুন বাড়িয়েছে। এতে করে গরম কাপড়ের অভাবে চরম বেকায়দায় পড়েছে শীতার্ত মানুষরা বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া, ছিন্নমূল, ভবঘুরে, নিম্ম আয়ের খেটে খাওয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষরা।  

তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে জেলার শীতার্ত মানুষদের গরমের উষ্ণতা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ১১টি উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জেলাজুড়ে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 

এমন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে সদর উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের ঝিকরাগ্রামের আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দাদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। সদর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা পরিষদের আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

এসময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম জাকির হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইবনুল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শীতবস্ত্র বিতরণের আগে প্রধান অতিথি আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দাদের মাঝে গণভোট-২০২৬ বিষয়ে ভোটারদের উদ্ভুদ্ধকরন বিষয়ে আলোচনা করেন। পরবর্তীতে  শিশুদের মানসিক বিকাশ, শারীরিক পুষ্টি ও শিক্ষা নিয়েও আলোচনা করেন। 

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন গরম কাপড়ের অভাবে জেলার কোন শীতার্ত মানুষকে কষ্ট পেতে হবে না। যথেষ্ট পরিমাণ শীতবস্ত্র মজুত রয়েছে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। সরকারের পাশাপাশি অন্যরাও যদি সামর্থ অনুসারে শীতবস্ত্র নিয়ে নিজের এলাকার শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ান তাহলে একজন শীতার্ত মানুষও শীতের কষ্ট অনুভব করবে না।

তিনি সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সামর্থবান সকলকে শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জেলার একটি শীতার্ত মানুষও যেন শীতে কষ্ট না পায় সেই জন্য যতদিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে ততদিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।

অপরদিকে গণভোট সম্পর্কে প্রতিটি ভোটারকে সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে তিনি আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দাদের মাঝে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে তুলে ধরেন। এছাড়া আদিবাসীদের সচেতন করার লক্ষ্যে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন জেলার এই প্রধান কর্মকর্তা।