সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা শুরু প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা শুরু  প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে


শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণা। নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। নির্বাচনি এই প্রচারণা রূপ নিয়েছে উৎসবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজশাহীর ছয়টি আসনের প্রার্থীরা ২৯ জন প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। 


এর আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর এদিন রাত ১২টার পর থেকে সংসদীয় এলাকা প্রার্থীদের কাপড়ের পোস্টারে ঢেকে যায়। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে গণসংযোগে নামেন প্রার্থীরা।


সকালে বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। কোরআান তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে গোদাগাড়ীর ডাইংপাড়া এলাকা থেকে শুরু হয় তার প্রচারণা। নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও লিফলেট বিতরণ করেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি দোয়া কামনা করেন তিনি।


এদিন গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব) শরিফ উদ্দিন। তিনি পৌর এলাকায় বিভিন্ন বাড়িবাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। 


এদিকে বিকেলে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু নগরের সপুরা এলাকা থেকে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি ভোটারদের হাতে হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেন।  এ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নগরের সাহেববাজার এলাকা থেকে গণসংযোগ করেন সকালে। রাজশাহীর অন্যান্য আসনের প্রার্থীরাও সকাল থেকেই তাদের এলাকায় প্রচারণা চালান। 


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সুখি ও শান্তির নগরী রাজশাহীকে অনিরাপদ করে তোলা হয়েছিল।


আমরা রাজশাহী মহানগরীকে আগের মতো নিরাপদ ও বসবাসের যোগ্য হিসেবে গড়ো তুলবো। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্র্যন্ত নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভা বক্তব্যদানকালে এসব কথা বলেন তিনি। 


মিনু আরও বলেন, আমি আপনাদের সন্তান। এই নগরে মেয়র ও এমপি থাকাকালে নগরের উন্নয়নে কাজ করেছি। বিএনপির পর আর সেইভাবে এ নগরে কাক্সিক্ষত ও স্থায়ী উন্নয়ন হয়নি। আমরা সুযোগ পেলে আগামী আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।


নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে তুলে সেখানেই আমাদের সন্তানদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এই নগর ও এই শহর যাতে উন্নত ও সুখী হয় সেই ব্যাপারে যা যা পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার তার সবকিছু করা হবে। 


রাজশাহী -৩ পবা মোহনপুর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মিলন দামকুড়া  ইউনিয়নের  বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা করেন। সেই সাথে নির্বাচনি অফিস  উদ্বোধন করেন।  তিনি বলেন, বিএনপি ১৮ বছর ক্ষমতার বাইরে আছে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নে  কাজ করেছে।


এরপর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে কোন কাজ করেনি। তারা প্রতিটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে নিজের ব্যাংক ব্যালেন্স করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে দেশের ও দেশের জনগণের উন্নয়নে কাজ করে।  


এদিন বিকেলে পবা উপজেলার দারুশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভা অংশ নেন তিনি। 


রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে দাড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ প্রচার মিছিল ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন। সকালের প্রথম প্রহরে পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড় থেকে তাঁর গণসংযোগ কার্যক্রম শুরু হয়।


এরপর নওহাটা বাজার, থানার মোড়, ব্রিজঘাটসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এরপর বিকেলে তিনি মোহনপুর উপজেলার কামারপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে গণসংযোগ করেন। 


গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল শেষে স্থানীয় জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলিত নানা সমস্যা প্রার্থীর সামনে তুলে ধরেন। এর মধ্যে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, কাঁচা রাস্তা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংকট এবং জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা উল্লেখ করেন তারা। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মনোযোগ সহকারে এসব অভিযোগ শোনেন এবং নির্বাচনে বিজয়ী হলে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।


এছাড়াও বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা গণসংযোগে অংশ নেন। 

প্রতীক বরাদ্দের পর রাজশাহী -৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন সকল প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে ধানের শীষ প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল দুর্গাপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালান। তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চান।


এছাড়ও এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী লন্ডন প্রবাসী রেজাউল করিমও দুর্গাপুর পৌরসভা এলাকায় ফুটবল প্রতীকে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমান পুঠিয়াতে প্রচার প্রচারণা চালিয়েন । এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফাক খায়রুল হক শিমুল ঘোড়া প্রতীকে পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি ইউনিয়ন এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা চালান। 


এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা সভা করেছেন। বাঘা উপজেলার আড়ানী চকসিংড়া কাছেমুল উমূল কওমি মাদ্রাসা থেকে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণা সভা করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমার নেতা তারেক রহমান হিন্দু-মুসলমানদের নিয়ে নতুন করে বাংলাদেশ গড়তে চায়।


যে সব মসজিদ. মাদ্রাসা, মন্দির মানুষের সহায়তা নিয়ে চলে, সেই সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্মানি ভাতা দেবেন বলে তারেক রহমান ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট চাওয়ার সবার অধিকার রয়েছে। আমাদেরও রয়েছে। কারও প্রতি হিংসা বিদ্বেষ নাই। অনেকেই মিথ্যা কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই মিথ্যা কথা ও মিথ্যা সান্তনা থেকে বিরত থাকবেন।