সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

মিয়ানমারের নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোট গ্রহণ চলছে

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩১ অপরাহ্ন
মিয়ানমারের নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোট গ্রহণ চলছে
মিয়ানমারের একটি নির্বাচনী কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গৃহযুদ্ধ কবলিত মিয়ানমারে রোববার সকাল থেকে সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মোট তিন পর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন শেষ হবে।

রয়টার্স লিখেছে, ব্যাপকভাবে সমালোচিত এ নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত একটি দল জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে আর জান্তা প্রধান একটি রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগের দুই পর্বের ভোট ২৮ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়। এই পর্বগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৫৫ শতাংশের মতো ছিল। মিয়ানমারে ২০২০ ও ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ, সেই তুলনায় এবার ভোটার উপস্থিতি কম।

এই পর্বে দেশটির বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন ও গুরুত্বপূর্ণ শহর মান্দালয়সহ ৬০টি শহরে ভোট গ্রহণ করা হবে। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের মধ্যেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতিসংঘসহ কিছু পশ্চিমা সরকার এবং অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যায়িত করে এক ‘সামরিক বাহিনীর দখল টিকিয়ে রাখার মহড়া’ বলে উল্লেখ করেছে। অপরদিকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বলছে, এ নির্বাচন নতুন একটি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, যা এপ্রিলে হতে পারে।

মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) গত দুই পর্বের ভোটের ফলাফলে এ পর্যন্ত পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২০৯টি আসনের মধ্যে ১৯৩টি এবং উচ্চকক্ষের ৭৮টি আসনের মধ্যে ৫২টি নিশ্চিত করেছে। ফলে দলটি ইতোমধ্যেই প্রভাবশালী অবস্থানে চলে গেছে।

২০১০ সালে গঠিত ইউএসডিপি পূর্ববর্তী সামরিক সরকারের অবসানের পর পাঁচ বছর দেশটি পরিচালনা করেছে। দলটির চেয়ারম্যান একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। দলটির শীর্ষ পদগুলোতে সামরিক বাহিনীর সাবেক অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আছেন।

মিয়ানমারের স্বাধীনতার পর থেকে গত ছয় দশকের মধ্যে পাঁচ দশকই সামরিক বাহিনী দেশটি শাসন করেছে। দেশটির রাজনীতিতে নিজেদের এই নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা থেকে সামরিক বাহিনীর সরে যাওয়ার কোনো বাস্তব অভিপ্রায় এ পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ