ইরানে আবারও হিজাব বিতর্ক: সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখেও অনড় নারীরা
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেও ইরানে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরা সংক্রান্ত সামাজিক বিতর্কটি নতুন করে উসকে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের চরম মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারের সমর্থনে মিছিলে হিজাবহীন নারীদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির রক্ষণশীল নেতা ও রাজনীতিকরা বাধ্যতামূলক হিজাব ফের কার্যকরের দাবি জোরদার করেছেন।
তেহরান প্রসিকিউটর অফিস এবং অন্যান্য প্রদেশের প্রশাসন থেকে কফি শপ, রেস্তোরাঁ ও পোশাকের দোকানে ‘নীতি বর্হিভূত কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক নিয়ম অমান্য করায় ইতোমধ্যে তেহরান ও দক্ষিণ খোরসানসহ বিভিন্ন শহরের একাধিক ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও বুটিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে জনপ্রিয় গায়িকা পরস্তু আহমাদী ও তার ব্যান্ড দলের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কাইহান পত্রিকার সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি একে আইনি ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তা সত্ত্বেও বিশেষ করে তরুণীরা এই আইন মানতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তেহরান ও সিরাজের মতো শহরগুলোতে হেলমেট পরিহিত কিন্তু হিজাবহীন তরুণীদের স্কুটার ও মোটরসাইকেল চালনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।
নির্বাচনের আগে ফের তুরস্কবিরোধী মেজাজে নেতানিয়াহুনির্বাচনের আগে ফের তুরস্কবিরোধী মেজাজে নেতানিয়াহু
হিজাব ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকারের ভেতরেও মতভেদ স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আইনের মাধ্যমে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে জোর জবরদস্তির বিরোধিতা করেন। সাবেক সংসদ সদস্য গোলামআলী জাফরজাদেহ বিমানাবাদি হিজাবের চেয়ে মূল্যস্ফীতি ও জনগণের জীবিকার ওপর নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পার্লামেন্ট সদস্য মোহাম্মদ-তাকি নকদালি দাবি করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এ ধরণের সাংস্কৃতিক অবক্ষয় দেশের জন্য বেশি বিপজ্জনক।
তবে সরকারের সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়ে তেহরানের এক প্রবীণ নারী মন্তব্য করেন, হয়তো আমরা যা ভাবছি তা হবে না, তবে বিপ্লবের পরও আমরা ভাবিনি হিজাব বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হবে, কিন্তু তারা তা করেছিল।
তথ্যসূত্র: সিএনএন, বাংলাট্রিবিউন