দায়িত্বে অবহেলা, পুলিশ সদস্যকে কান ধরালো বিক্ষুদ্ধ জনতা
রাজশাহীর পুঠিয়ায় বাসের ধাক্কায় তিনজনের নিহতের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যকে প্রায় ঘণ্টাখানেক কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত থেকে পুলিশ সদস্যের এমন একটি ভিডিও ও একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় আলোচনা। এই পুলিশ সদস্য রাজশাহী মেট্রোপলিটনের বেলপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যায়, ‘পুঠিয়ার দিক থেকে আসা রাজকীয় পরিবহনের একটি বাস সরাসরি অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়েছে। আমার বন্ধু শান্ত ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। এখানে যে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন, তারা কোন থানার অন্তর্গত তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আমরা চাই দ্রুত বাসের চালককে আটক করে আইনের আওতায় আনা হোক।;
ভিডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, ‘এটা বেলপুকুর থানার পুলিশ। কান ধরে দাঁড়িয়েছে, জনগণের কাছে কট।’
ওইদিন বিকেলে পুঠিয়ার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ একজন নারী ও আরেকজন পুরুষও মারা যান। আরও ছয়জন আহত হয়ে রামেক হাসপাতালে ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করলে কয়েক কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়। রাতের দিকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে নেটিজেনরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে পুলিশ সদস্যকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে উদ্ধার করেন।
বিষয়টি নিয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরজুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি আরএমপির কর্মকর্তারা। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয় যায়নি।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, সীমানা জটিলতার কারণে সমস্যা হয়েছে। মূলত দুর্ঘটনায়র স্থানটি ছিল হাইওয়ে থানার। আমি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয়রা না বুঝে বেলপুকুর থানার এসআইকে অবরুদ্ধ করে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল।#