সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

বেতন পাচ্ছেন না নগর স্বাস্থ্যকর্মীরা সিটি করপোরেশন ঘেরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
বেতন পাচ্ছেন না নগর স্বাস্থ্যকর্মীরা  সিটি করপোরেশন ঘেরাও

বকেয়া বেতনের পরিশোধের দাবিতে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের স্বাস্থ্যকর্মীরা বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিযোগ করেন, গেল সাত মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাচ্ছেন না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। 


বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটকের সামনে শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে মানববন্ধন,অবস্থান সবশেষ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। এসময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।


বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্বাস্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, সাত মাসের বকেয়া বেতনের পরিবর্তে তাদের মাত্র তিন মাসের বেতন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত মাসিক বেতন ১৬ হাজার ৫০০ টাকা থাকলেও দেওয়া হবে মাত্র ৯ হাজার টাকা। এমন তথ্য জানিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও সহযোগী সংস্থার যৌথ বাস্তবায়নে পরিচালিত আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে নগরীর স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এই প্রকল্পের আওতায় মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান সহায়তা, পরিবার পরিকল্পনা, সাধারণ বহির্বিভাগ চিকিৎসা, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।


এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আনজুমান আরা বেগম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।


তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব নয়ন কুমার সাহা বলেন, প্রকল্পটির মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকার কারণে এবং হঠাৎ করে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ না করতেই অনেক কর্মী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রকল্পটি সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অংশীদার এনজিওগুলোর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত হওয়ায় বিষয়টি কিছুটা জটিল হয়েছে বলে তিনি জানান।


তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের আর্থিক দাবির বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুতই কিছু সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।