মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

চলছে নির্বাচনি প্রচারণা উপেক্ষিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতি!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১ অপরাহ্ন
চলছে নির্বাচনি প্রচারণা  উপেক্ষিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতি!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় এখনো নির্বাচনি প্রচার পৌঁছায়নি। কয়েক হাজার আদিবাসী ভোটার থাকলেও তাদের গ্রামে কোনো প্রার্থীর পদচারণা নেই বলে জানিয়েছেন তারা।


গোমস্তাপুর উপজেলার জিনারপুর এলাকা এবং সদর উপজেলার বাবুডাইং বনের পাশে খাসজমিতে বসবাসকারী কোল, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষরা জানান, স্বাধীনতার পর অনেক নির্বাচন দেখলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।


‘শুন্যাছি রাজার ভোট। এখুনো ভোট লিয়া কেহু আসেনি তাদের  কাছে। তাদের ভোটের কি কোন দাম আছে। এভাবেই আক্ষেপ প্রকাশ করেন ঝিলিম ইউনিয়নের বিলবৈলঠার গ্রামের এক কোল নারী।


উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগু মুর্মু জানান, ভোট চাইতে কেউ আসেনি। আলোচনা হচ্ছে নিজেদের মধ্যেই।


ফিলটিপাড়া, চাতরাপাড়া, জাটকাপাড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ভোট চাইতে আসেননি।


ফিলটিপাড়ার উচ্চমাধ্যমিক পাস গৃহবধূ কল্পনা মুর্মু বলেন, আমরা কী সমস্যায় আছি, তা কেউ জানতে আসে না। মাদক আর বাল্যবিবাহে আমাদের সমাজ জর্জরিত। আমাদের ধরে নেওয়া হয় আওয়ামী লীগের ভোটার। কিন্তু ওদের আমলেও তো আমরা ভালো ছিলাম না।


জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি ও গোমস্তাপুর বাসিন্দা বিচিত্রা তির্কি বলেন, প্রতিবার নির্বাচনের আগে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না।


আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা গেছে, কিন্তু গ্রামে ঢোকেনি। এখনো কাঁচা রাস্তা, দেরিতে বিদ্যুৎ। খাসপুকুর থাকলেও আমরা ভোগদখল করতে পারি না। ভূমিদস্যু আর নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাইনি।


এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, সব আদিবাসী গ্রামে যাইনি, এটা ঠিক নয়। কিছু গ্রামে গেছি। তাঁদের বড় সমস্যা খাসপুকুরের দখল। নির্বাচিত হলে এ সমস্যার সমাধান করব।


জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান জানান, সব নেতার সঙ্গে কথা হয়নি। তবে কিছু গ্রামে গেছি। তাঁরা যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন এবং সমান অধিকার পান, সে চেষ্টা করব।


ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা জানান, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দাবিদাওয়া ঠিক করেছেন। এবার তারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উদ্যোগ চান।


বিলবৈলঠার গ্রামের এক কোল নারী বলেন, স্বাধীনের পর থাকি বহুত ভোট দেখনু। হামমো খাটিয়েই খাই। ভোট দিয়া হামরা কিছুই পাব না।


চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই আদিবাসী গ্রামগুলোয় নির্বাচন এখনো যেন দূরের গল্প। রাজার ভোট আসছে ঠিকই, কিন্তু ভোট চাইতে না আসা প্রার্থীদের কাছে তাদের জীবনসংগ্রাম এখনো অদৃশ্য।