রাজশাহী-৬ আসন : জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিএনপি, নড়ে-চড়ে বসেছে জামায়াত
জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশের বাইরে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসাহ কাজ করছে। নির্বাচনের দিন যতো আগাচ্ছে, জয় পরাজয়ের হিসাব নিকাশ ভোটারের মাঝে বাড়ছে।
বিএনপির দুর্গ হিসাবে এই আসনে জয় লাভের স্বপ্নে মাঠ চষছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়ার সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। তাঁর সাথে রয়েছেন অসংখ্য নেতা-কর্মী।
অপরদিকে, বসে নেই জামায়তে ইসলামীর প্রার্থী। এ আসনে বিগত সময়ে তারা বিএনপির সাথে জোট হিসাবে ভোট করে জয়যুক্ত হলেও এবার বিএনপির প্রতিদ্বদ্বী হিসাবে একক প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাজমুল হককে। তার সঙ্গেও রয়েছেন, দলের সকল নেতা-কর্মীরা।
এই অসনটি তারা এবার পাওয়ার আসায় একেবারে নড়ে-চড়ে বসছেন। বিশেষ করে নারীদের ভোট বিএনপির চেয়ে তারা বেশি পাবেন বলে ধারনা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা দাবি করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করা হয়।
প্রতিদিন পাড়া-মহল্লায় ইসলামের দাওয়াত দিয়ে সৎ মানুষের পক্ষে ভোটের রায় দিয়ে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহবান জানানো হয়। এতে আশানুাঝপ সাড়া পাওয়া গেছে। এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হবেন বলে জামায়াত প্রার্থীর ধারণা।
প্রধান দুই প্রতিদ্বনদ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পর একে-অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুরু করেছেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশেষ কিছু আঁচ করা না গেলেও, বিএনপি ও জামায়াত পরস্পর বিরোধী শক্ত অবস্থানে যাওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। বিএনপির নেতারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী দলটির ভূমিকা ও দেশ বিরোধী কার্যক্রম এবং বর্তমানে ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ছুড়ছেন।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, রাজশাহীর মাটি হলো বিএনপির ঘাটি। ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০০৪ সালের আগ পর্যন্ত জেলার প্রতিটি আসন ছিলো বিএনপির দখলে।
তিনি বলেন, আমি রাজনীতি থেকে শুরু করে জীবনে কোনদিন কোন কাজে পরাজিত হয়নি। ইনশঅল্লাহ এবারও হবো না। আমার বিশ্বাস মানুষ আমাকে তাদের মুল্যবান ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
তিনি আরো বলেন, এবার নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে, দলটির নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের বিভ্রান্ত করছেন। তাঁরা এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছেন, মোবাইল ফোন নম্বর নিচ্ছেন। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের অবরুদ্ধ করাসহ দেশের কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক বলেন, আমি কোরআন এবং সৃষ্টি কর্তাকে বিশ্বাস করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। এ অঞ্চলের মানুষ জানান, কোন রাজনৈতিক দল কি-ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আমার নির্বাচনী ওয়াদা, যদি সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে সরকার গঠন করার সুয়োগ দেন, তাহলে দেশে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি হবে না।
মানুষের জানমাল রক্ষা সহ এই দেশের উন্নয়ন করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং প্রথম কাজ। তিনি ভোটের ময়দানে মানুষের দোয়া কামনা করে বলেন, নারীরা ভোট চাইতে পারবে না এমন কথা কোথাও বলা নেই। ভোট সব দলের নারীরাই চাচ্ছে। এদিক থেকে সকলের অধিকার রয়েছে। তবে আমাদের নারীরা পর্দা করে ভোট চাইলে অন্যদের এতো লাগছে কেনো এটা আমার বোধগম্য নয়। #