সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:০২ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রচারণা এখন তুঙ্গে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে শুধু ভোট নিয়ে চলছে হিসাব নিকাশ। নির্বাচনে ছয়টি দলের প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য কারও প্রভাব নেই।


চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনটিতে রয়েছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর, আম, কৃষি ও পর্যটন। ১২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে মোট ভোটার সংখ্যা হলো পাঁচ লাখ ১৮১ জন। পুরুষ ভোটার  দুই লাখ ৫৫ হাজার ৩১৬ জন এবং নারী ভোটার  দুই লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৫ জন। নতুন ভোটার ২৭ হাজার ৮৯৯ এবং  তরুণ ভোটার হলো এক লাখ ৭০ হাজার  ৪৪৭ জন। ভোট কেন্দ্র আছে ১৫৯টি এবং কক্ষ আছে ৯৩৬। এ আসনটি ১৯৭৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দখলে ছিল।


এ আসনে ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- বিএনপি থেকে প্রবীণ ও পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান আলি মিঞা, জামায়াতে ইসলামীর ড. কেরামত আলী জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আব্দুল হালিম, ইসলামী আন্দোলনের মনিরুল ইসলাম ও ইসলামী ফ্রন্টের শামসুল হোদা।


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সক্রিয় হয়ে উঠে জামায়াতে ইসলামী। রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমীর ড. মাওলানা কেরামত আলী এই আসনের প্রার্থী। তার বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে শিবগঞ্জের নদী ভাঙন এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও আমসহ কৃষি বিভাগকে ঢালাওভাবে সাজোনোসহ সকল সমস্যার সমাধান করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। 


অন্যদিকে বিএনপি প্রবীণ নেতা ও ১৯৭৯ সাল ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপাক শাহজাহান আলী মিঞা। তার দীর্ঘদিনে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জুলাই বিপ্লবের পর থেকে মাঠে কাজ করে দলকে গুছিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। বিএনপি বিশাল কর্মী, শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান, সাবেক সহকর্মী শিক্ষক, সাবেক ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে পদ্মায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও সোনামসজিদ বন্দরকে প্রসারিত ও কুটির শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধানসহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট পেতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। 


শিবগঞ্জ আসনে শুধু একবার মাওলানা কেরামত আলী উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া ছাড়া কোন নজির নেই। তবে জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, বিগত ৫৪ বছরের অন্যায় অত্যাচার দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লায়য় ভোট দিয়ে তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে। 


অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শাহজাহান আলি মিঞা পাঁচবারের নির্বাচিত সুত্র ধরে শিবগঞ্জে অতিপরিচিত বিএনপির প্রবীন নেতা। শিবগঞ্জকে বিএনপির ্ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি হিসেবে নিজের অবস্থানকে ধরে রাখতে চান তিনি।