সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

ধুলা থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর ‘পানি থেরাপি’!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
ধুলা থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসীর ‘পানি থেরাপি’!

পাকা সড়কের বিটুমিন উঠে কয়েক বছর আগেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া পাবনার ঈশ্বরদীর ব্যস্ততম টিপু সুলতান রোড এখন ধুলাবালুর সড়ক। প্রথম শ্রেণির পৌর শহরের ব্যস্ততম এ পাকা সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানুষের বসবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখাও দুস্কর হয়ে পড়েছে ধুলার কারণে। 


এ সড়কে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বালুবাহি দশ চাকার ড্রাম ট্রাক চলাচল করার কারণে রাস্তার পুরোটাজুড়ে ট্রাক থেকে ঝরেপড়া বালুর আস্তরণ আর ভাঙা রাস্তায় ধুলো স্তুপাকারে জমা হয়ে একাকার হয়ে পড়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার আবেদন নিবেদন করেও এ রাস্তা সংস্কার করা, রাস্তা থেকে বালু-ধুলা সরানো কিংবা পানি ছিটানোর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ধুলা থেকে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে নিজেরাই ‘পানি ‘থেরাপি’র পথ বেছে নিয়েছেন সড়কটির আশেপাশের বাসিন্দারা। 


শহরের রেলওয়ে গেট থেকে সাঁড়াগোপালপুর হয়ে বকশিরচক তালতলা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন পানি ছিটিয়ে ধুলার কবল থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এ সড়কের যেখানে যার বাড়ি অথবা যেখানে যার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেখানে সেখানে তারা নিজ উদ্যোগেই সকাল-বিকাল দুই বার করে পানি ছিটিয়ে রাস্তা ভিজিয়ে রাখেন। 


কেউ কেউ বাড়ির পানির লাইনে পাইপ লাগিয়ে রাস্তায় পানি ছিটান, আবার কেউ কেউ বাড়ি থেকে বালতির পর বালতি পানি এনে মগ দিয়ে রাস্তায় ছিটিয়ে থাকেন। অনেকে টাকার বিনিময়ে লোক লাগিয়ে রাস্তা ভেজান। এতে প্রতিদিন রাস্তা ভেজানোর প্রয়োজনে এলাকাবাসীর বাড়তি খরচও গুনতে হচ্ছে। 


এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঈশ্বরদী পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নিকট এই এলাকার বাসিন্দারা গাড়ির সাহায্যে পানি ছিটানোর অনুরোধ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ সে অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার কারণে এলাকাবাসী নিজেরাই প্রতিদিন দুই বেলা নিয়ম করে রাস্তা ভেজাতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাঁড়াগোপালপুর স্কুলপাড়ার মুদি দোকানি রবিউল ইসলাম বলেন, রাস্তার পাশে আমার দোকান। রাস্তা দিয়ে বালুবাহি দশ চাকার ড্রামট্রাক চলার সময় মেঘের মত ঘন ধুলো এসে আমার দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে, তাই বাধ্য হয়ে সকাল-বিকাল দু’বেলা নিয়ম করে দোকানের সামনের রাস্তায় পানি ছিটিয়ে রাস্তা ভিজিয়ে রাখতে হচ্ছে। পানি ছিটানোর জন্য প্রায় একশো ফুট পাইপ কিনতে হয়েছে। 


স্কুলের সামনের হোটেল মালিক উজ্জল হোসেন বলেন, দোকানের সামনে রাস্তা থেকে উড়ে আসা ধুলোবালু খাবারে পড়ে প্রতিদিন খাবার নষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে দু’বেলা রাস্তায় পানি ঢালতে আলাদা লোক রাখতে হয়েছে। উজ্জলের ভাষ্য, এতে আমার দিনের বাড়তি খরচ একশো টাকা করে বেড়েছে। 


টিপু সুলতান রোডের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, এমনিতেই রাস্তাটি ভেঙে চুরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তার ওপর যানবাহন চলার সময় রাস্তা থেকে উড়ে আসা ধুুলোয় বাড়ির আসবাবপত্র, বিছানা ও কাপড়চোপড় ধুলাময় হয়ে পড়ে। কাপড় ঝাড়া দিলে ধুলো উড়ে। খাবার ঢেকে রাখলেও ধুলা পড়ে। রাস্তার ধুলার কারণে বাড়িতে বসবাস করা দায় হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। 


টিপু সুলতান রোডের ফরাজিপাড়ার বাসিন্দা আকুল হোসেন ফরাজি বলেন, ট্রাক থেকে ঝরেপড়া বালু রাস্তায় পড়ে পাকা রাস্তা এখন ‘বালুর রাস্তা’য় পরিণত হয়েছে। রাস্তার বালুতে পিছলে ও গাড়ির চাকা আটকে প্রতিদিন এ সড়কে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।


স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, রাস্তা সংস্কার অথবা নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলার প্রকোপ থেকে রক্ষা করতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী পৌরসভায় গিয়ে আমরা আবেদন করেছিলাম কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ সে আবেদনে সাড়া দেয়নি।


ঈশ্বরদী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (পিএনও) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক মাস আগে এ সড়কে ইটের খোয়া ও বালু দিয়ে ভাঙা অংশ মেরামত করা হয়েছিল কিন্তু প্রতিদিন অর্ধশত বালুবাহি বড় বড় ট্রাক চলাচলের কারণে তা টেকেনি, কিছুদিনের মধ্যেই আবার আগের মত হয়ে গেছে। 


ঈশ্বরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান রাস্তার দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি নতুন এসেছি, তবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি ইতোমধ্যে এসড়ক নতুন করে নির্মাণের জন্য একনেকের সভায় বাজেট অনুমোদন হয়েছে, খুব শিগগিরই দরপত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।