নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে বিএনপি: মিলন
নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়—এমন মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীর অগ্রাধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারীদের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেয়া হবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়নে গণসংযোগ ও পথসভায় এসব কথা বলেন মিলন। সকালে গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু করে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সংক্ষিপ্ত পথসভায় নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে- যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান বিএনপির এই প্রার্থী। পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও বেকারত্ব দূর করতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানান তিনি। কৃষকদের হাতে ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়ার অঙ্গীকারের পাশাপাশি ক্রীড়া উন্নয়নে মাঠের সংখ্যা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেন তিনি।
পথসভায় মিলন বলেন, অতীতে যারা নারীর প্রতি অবমাননাকর ভূমিকা রেখেছিল, তারাই এখন নারীর সম্মান রক্ষার কথা বলছে। বিষয়টি জনগণ ভালোভাবেই বুঝে গেছে। তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে একাধিক নারী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন, অথচ জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে কোনো নারী প্রার্থী নেই। তিনি আরও বলেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে মিলন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে শান্তি বজায় থাকে এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়। তার দাবি, পবা ও মোহনপুর উপজেলার অধিকাংশ সড়ক বিএনপির শাসনামলেই নির্মিত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বড় প্রকল্পের নামে অর্থ অপচয় করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হড়গ্রাম ইউনিয়নের বিগত স্বৈরাচারী সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন মিলন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান দায়িত্বে থাকলেও এলাকায় দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি; অনেক সড়ক এখনও কাঁচা রয়ে গেছে। বক্তব্যে মিলন বলেন, রাজশাহী-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গণসংযোগকালে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শুভেচ্ছা জানান ও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, হড়গ্রাম বিএনপির আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন, সদস্য সচিব শাহিন রেজা সান্নান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দের জামানি সুমন, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, নারী নেত্রী মৌসুমী নাসরিনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।