ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমবে নওগাঁ-৬ এর নির্বাচন
আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ৫১ নওগাঁ-৬। কৃষি ও মৎস্য সমৃদ্ধ এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে উত্তাপ। ভোটারদের মতে, এবার এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির বিদ্রোহী(স্বতন্ত্র)প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ লড়াই হবে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক পাবার পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাদের সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে নির্বাচনের মাঠে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও ভোটযুদ্ধে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এবং জামায়াত প্রার্থীর সাথে।
এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মানদণ্ড হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার অভিজ্ঞতা তরুণদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। তরুণ ভোটারের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, বিদ্যুত, স্বাস্থ্যসেবা, ঢাকাগামী ট্রেন স্টপেজ, পৌরসভার বাস্তবায়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
এবারের নির্বাচনে নওগাঁ-৬ আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দি¦তা করলেও আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রোজাউল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নওগাঁ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য খবিরুল ইসলাম এবং (স্বতন্ত্র) প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও চার দলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৮১ জন।এর মধ্যে আত্রাইয়ে ১ লাখ ৭৭ হাজার ২৩ রাণীনগরে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার রয়েছেন।
ভোটারদের ভাষ্য, স্থানীয় প্রার্থী হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ে আত্রাই উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম কিছুটা এগিয়ে থাকবেন। একই কারণে রাণীনগর উপজেলায় মোটর সাইকেল মার্কার (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আলমগীর কবির এগিয়ে থাকতে পারেন। তবে উভয় উপজেলায় জামায়াতের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম পাশাপাশি অবস্থান করার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটারদের এই ধারণা সত্য হলে, কে বিজয়ের মালা পড়বেন তা নিশ্চিত করে বলা মুসকিল।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, ধানের শীষের নিশ্চিত জয় জেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের লোকজন নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে ধানের শীষের কোনো ক্ষতি হবে না এবং কোনো ভোটারও বিভ্রান্ত হবেনা বলে তিনি আশাবাদী।
জামায়াত মনোনিত প্রার্থী খবিরুল ইসলাম বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। নির্বাচনে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে। এবার জামায়াতের পক্ষে ভোটবিপ্লব ঘটবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।
নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে মোটরসাইকেল প্রতীকের (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আলমগীর কবির বলেন, বিএনপি মনোনিত প্রার্থীকে এলাকাবাসী ও ভোটাররা মেনে নিতে পারছেন না। এতে পাগল হয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, অফিস ভাংচুর করছেন। নানা বাধা সত্ত্বেও ভোটাররা আমার পাশে রয়েছেন।