সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের জন্মদিন আজ

সোনার দেশ ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন
কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের জন্মদিন আজ

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার যবগ্রামে একান্নবর্তী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 


স্কুল সার্টিফিকেট অনুসারে তার জন্ম তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি হলেও আত্মস্মৃতি ‘ফিরে যাই ফিরে আসি’তে তিনি লিখেছেন তার জন্ম তারিখ সম্ভবত ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯। তার পিতা মোহাম্মদ দোয়া বখশ্‌ এবং মাতা জোহরা খাতুন। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রাজশাহীতে কাটিয়েছেন। 


তিনি ১৯৫৪ সালে যবগ্রাম মহারানী কাশীশ্বরী উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে স্কুল ফাইনাল এগজামিনেশন এবং ১৯৫৬ সালে খুলনার শহরের অদূরে দৌলতপুরের ব্রজলাল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। প্রথম যৌবনেই ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। রাজনীতি করার কারণেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত হন। 


১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজে থেকে দর্শনে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পিএইচডি অধ্যয়নের জন্য অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু দিন অধ্যয়ন করেছিলেন। 


১৯৬০ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী সিটি কলেজ, সিরাজগঞ্জ কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি ব্রজলাল কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৭৩-এ তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৪ সাল পর্যন্ত একাধারে ৩১ বছর অধ্যাপনা করেন। ২০১৪-এর আগস্টে তিনি বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। 


রাজশাহী কলেজে পড়ার সময় কলেজের উদ্যমী তরুণ মিসবাহুল আজীমের সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাঁজপত্র ‘চারপাতা’য় হাসানের প্রথম লেখা ছাপা হয়, লেখাটির বিষয় ছিল রাজশাহীর আমের সুখ্যাতি। তবে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় পত্রিকায় ১৯৬০ সালে ‘শকুন’ শীর্ষক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে হাসান আজিজুল হক সাহিত্যাঙ্গনে তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 


তবে কৈশোরজীবনেই তার সাহিত্যচর্চার হাতেখড়ি। তিনি যখন কাশীশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তখন ওই স্কুলে রাজা সৌমেন্দ্র চন্দ্র নন্দীর আগমন উপলক্ষে একটি সংবর্ধনাপত্র রচনার মধ্য দিয়ে তার লেখালেখি জীবনের শুরু। 


এ ছাড়া প্রবেশিকা পাসের পরপরই তিনি লেখেন ‘মাটি ও মানুষ’ শীর্ষক একটি উপন্যাস; যে রচনাটি অদ্যাবধি অপ্রকাশিত। ‘শকুন’ গল্পটি প্রকাশের আগেই ১৯৫৬ সালে নাসির উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ‘মুকুল’ পত্রিকায় তার ‘মাটি ও পাহাড়’ শীর্ষক একটি গল্প প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া বিএল কলেজবার্ষিকীতে তার ‘লাঠি’ শীর্ষক একটি ছোটগল্প এবং ‘সাগর পারের পাখিরা’ শীর্ষক একটি কবিতা প্রকাশের কথাও জানা যায়। এ সময় ‘পাষাণ বেদী’ নামে একটি গল্পও প্রকাশ পেয়েছিল অন্য একটি কলেজবার্ষিকীতে। সাহিত্যচর্চার প্রথম দিকে হাসান আজিজুল হক কবিতা রচনায়ও আগ্রহী হয়েছিলেন।


‘বিনতা রায় : আমি’, ‘নিরর্থক’, ‘গ্রামে এলাম’, ‘দিনাবসান’, ‘কথা থাক’, ‘রবীন্দ্রনাথ’ প্রভৃতি কবিতা তিনি ১৯৫৭ সালে রচনা করেছিলেন। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।