মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

নওগাঁয় সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান

নওগাঁ প্রতিনিধি ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নওগাঁ প্রতিনিধি ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:০১ অপরাহ্ন
নওগাঁয় সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান

“আমাদের দাবি, আমাদের অধিকার নতুন পে-স্কেল হবে এবার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পে-স্কেল এলন জরুরী নীতি” এই রকম বিভিন্ন শ্লোগানকে সামনে রেখে অবিলম্বে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবীতে নওগাঁয় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলার সকল দপ্তরের সরকারি কর্মচারীবৃন্দ। এসময় বিক্ষোভকারীরা হাতে বিভিন্ন শ্লোগান সংবলিত প্লাকার্ড নিয়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গন।  


কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ ৭দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নওগাঁতে এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে নওগাঁ জেলার সকল সরকারি কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী রোববার থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কলম বিরতি করেছে জেলার সকল সরকারি দপ্তরের কর্মচারীবৃন্দ। 


এদিন সকালে জেলার সকল সরকারি কর্মচারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তির মোড়ে এসে শেষ হয়। পওে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম, সার্টিফিকেট সহকারী মিজানুর রহমান, ঋষিকেশ চন্দ্র মন্ডল, মামুন আক্তার,  নওশাদ হোসেন,  রাকিবুল ইসলাম,  ওমর সাগর,  মোহাইমিনুল ইসলাম মিঠু ও আব্দুল্লাহ আল এরশাদ প্রমুখ। 


এসময় বক্তারা বলেন সরকার সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল দিতে নানা টালবাহানা শুরু করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারে সরকারি কর্মচারীরা যে ভাতাদি পাচ্ছে তা দিয়ে পরিবার চালানো অনেক কষ্টসাধ্য। সরকার অন্যান্য দপ্তরের বিভিন্ন দাবী মেনে নিলেও কর্মচারীদের পে-স্কেল দিচ্ছে না। তাই এবার দেশের সকল সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেল বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবে। তা না হলে   দ্রুতই আরো কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী প্রদান করেন বক্তারা। 


নওগাঁ জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখার নাজির কাম-ক্যাশিয়ার নাহিদ আল-সালাম জানান বাংলাদেশ জেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় নাগরিকদের সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বিস্তৃত পরিসরে সেবা প্রদান করে থাকে। ভূমি সংক্রান্ত সেবা: ভূমি রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ ও হালনাগাদকরণ, খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ ও আদায় এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল সংক্রান্ত কাজ।


লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট: আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, সিনেমা হল ও আবাসিক হোটেলের লাইসেন্স, এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদপত্র প্রদান। রাজস্ব ও বিচারিক সেবা: রাজস্ব মামলার আপিল শুনানি, রেকর্ড রুম থেকে খতিয়ানের জাবেদা নকল (পর্চা) সরবরাহ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। ত্রাণ ও অনুদান: প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা অসহায় ব্যক্তিদের অনুদান ও চেকে সহায়তা।


শিক্ষা ও সাধারণ প্রশাসন: জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের সমন্বয়, জনশুমারি পরিচালনা এবং পাবলিক পরীক্ষা (যেমন- এসএসসি, এইচএসসি) সুষ্ঠুভাবে আয়োজন নিশ্চিত করা। অভিযোগ ও ই-সেবা: নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি ফরম ও আবেদন গ্রহণ। এতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেও যদি সরকারি কর্মচারীরা পে-স্কেল না পায় তাহলে তার মতো দুঃখজনক আর কিছুই নেই। তাই এবার তারা ৯ম পে-স্কেল নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরবেন। তা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজপথেই তারা অবস্থান করবেন।