মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি, না মানলে ‘ভুখা মিছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি, না মানলে ‘ভুখা মিছিল’

বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে সরকারি কর্মচারীরা স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ঘোষিত সারাদেশব্যাপী তিন দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কর্মবিরতি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচির শেষ দিনে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় আন্দোলনরত কর্মচারীরা জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এই কর্মসূচিতে রাজশাহী কালেক্টরেট ক্লাবের সদস্যদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি অধিদপ্তরের বিপুলসংখ্যক কর্মচারী অংশ নেন। আন্দোলনরত কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মচারীরা বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ দাবির প্রেক্ষিতে সরকার পে-কমিশন গঠন করলেও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা পড়ার পরও এখনো গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। কর্মচারীদের অভিযোগ, গেজেট প্রকাশে অযৌক্তিক বিলম্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।

অবস্থান কর্মসূচিতে রাজশাহী কালেক্টরেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলমাস হোসেন বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পে-কমিশন গঠন করে এবং গত ২১ জানুয়ারি কমিশন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করে। কিন্তু এরপরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্মচারীরা চরম হতাশ। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করে দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ ও পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এ সময় রাজশাহী কালেক্টরেট ক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার দায় সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেল কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি কর্মচারীদের প্রাপ্য অধিকার। দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে এই অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী কালেক্টরেট ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ করিম বলেন, সরকারি কর্মচারীরা আন্দোলন করতে চান না; তবে মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য বাধ্য হয়েই রাজপথে নামতে হচ্ছে। সরকার যদি অবিলম্বে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করে, তাহলে কর্মচারীরা সঙ্গে সঙ্গে কাজে ফিরে যাবেন।

রাজশাহী কালেক্টরেট ক্লাবের সহ-সভাপতি এসএম জাকারিয়া বলেন, দাবি আদায়ের বিষয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ঘোষণায় ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরপরও দাবি আদায় না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ‘ভুখা মিছিল’ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।