বহিস্কার আতঙ্কে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিদ্রোহী শিবিরে থাকা বিএনপি নেতারা
পাবনা-৪ আসনে (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবদলের ৬ নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের আহবায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল ইসলাম রিপন, আক্তারুজ্জামান রাজু, এনামুল হক আতিয়ার, মাহমুদ হাসান সোনামনি, ও সদস্য মতিউর রহমানকে বহিস্কার করা হয়। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর মোটর সাইকেল প্রতিকের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের কারনে তাদের বহিস্কার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম নয়ন দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পর দলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া দলীয় প্যাডে লিখিতভাবে ঈশ্বরদীর এই ৬ যুবদল নেতার বহিস্কারাদেশ সাক্ষর করেন।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের দুই উপজেলায় এবার বিদ্রোহী শিবিরে থাকা বিএনপির নেতাদেরও মধ্যেও বহিস্কার আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, পাবনা-৪ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের ‘হেভিওয়েট প্রার্থী’ বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং বিএনপির নির্দেশনা না মেনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
সদ্য বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে যেসব নেতারা এখনো ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে ও মোটর সাইকেল প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তাদেরও দু’এক দিনের মধ্যে দল থেকে বহিস্কার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
তিনি বলেন, নির্বাচনী বিভিন্ন সভায় এই আসনের সাবেক এমপি ও পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদারের নাম উল্লেখ করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করা নেতাদের বহিস্কারের ঘোষনা আমি আগেই দিয়েছি।
তিনি জানান, ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় বহিস্কার হতে পারেন সাবেক এমপি সিরাজ সরদার, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক এস.এম. ফজলুর রহমান, ইসলাম হোসেন জুয়েল, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার তৌফিক আলম সোহেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান ‘ফুল জুয়েল’, সাঁড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার, লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান সরদার, আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খান প্রমুখ। পাবনা-৪ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপি নেতা মাহ্বুবুর রহমান পলাশ এসব নেতাদের বহিস্কার করা হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছেন।
এসব বিষয়ে পাবনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যারা তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে আমাদের দলীয় প্রতীক ধানের শীষের বিরোধীতা করে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী কর্মকান্ডে লিপ্ত আছেন তাদের বিএনপির রাজনীতি করার অধিকার নেই, তাদের দল থেকে বহিস্কার করা দলের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।
এ বিষয়ে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও দল থেকে সদ্য বহিস্কৃত ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর মতামত জানতে গতকাল বুধবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।