সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

প্রতিশ্রুতির জোয়ারে ভাসছে রাজশাহী-৫ আসন, দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা

গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ন
প্রতিশ্রুতির জোয়ারে ভাসছে রাজশাহী-৫ আসন, দিনরাত প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা
বাম থেকে নজরুল ইসলাম, মাওলানা মনজুর রহমান, ইসফা খায়রুল হক ও রেজাউল করিম

আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। বাকি মাত্র আর ৫দিন। আর এই দিনগুলোকে কিছুতেই নষ্ট করতে চায়না প্রার্থীরা। রাজশাহী-৫ আসন পুঠিয়া-দুর্গাপুরে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী মাঠ এখন সরগম হয়ে উঠেছে।


প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনায় ব্যাস্ত সময় পর করছেন। থেমে নেই প্রচার মাইক অন্যান্য মাধ্যম। দুপুর ২টা বাজার সাথে সাথে বেজে ওঠছে প্রচার মাইক। আর গানের সুরে চলছে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা।


যা চলছে রাত ৮টা পর্যন্ত। এদিকে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মাঠে নেমেছেন নারীরাও।


ভোটে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গ্রাম থেকে শহর সবখানেই সভা, সমাবেশ আর পথসভায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের। প্রতিদিনই তাদের নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি যুক্ত হচ্ছে প্রচারে। ঘোষণা করা হচ্ছে দলীয় ইশতেহারও।


জোর দেওয়া হচ্ছে দুর্নীতি দমন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের ওপর। তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রায় সব দলের বক্তব্যে। 


এ আসনে মোট ৭জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও মাঠে রয়েছেন ৪জন প্রার্থী। অংশগ্রহণ প্রার্থীরা হলো বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম (ধানের শীষ),


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান (দাঁড়ি পাল্লা) স্বতন্ত্র প্রার্থী পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, শিল্পপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল (ঘোড়া), যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (ফুটবল), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মনোনীত প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা (একতারা),


ইসলামী আন্দলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাউসার (মোটরসাইকেল) প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহন করেছেন। তবে প্রচারণার মাঠে রয়েছেন ৪জন প্রার্থী। এরা হলেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মাওলানা মনজুর রহমান, ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম।


বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির বিদ্রোহী বলে কিছু নেই’ তবে দুই প্রভাবশালী নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও এতে ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। বিএনপির একাট ইমেজ আছে।


তারেক রহমান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া যে ইমেজ আছে সেই ইমেজে অন্যরা টিকবে না। কি কারনে ওদের ভোট দিবে মানুষ, না আছে পার্টি ম্যানডেট, না আছে তাদের রাজনৈতিক ইতিহাস, না আছে মানুষের সাথে সম্পর্ক। আমি পুঠিয়া-দুর্গাপুরের মানুষে সঙ্গে ছিলাম, আছি থাকবো এবং ভোটারদের ভালোবাসয় নির্বাচীত হব ইনশাআল্লাহ।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি। কারণ আমি ভোটারদের কাছে যখন যাচ্ছি, ভোটারদের যে উচ্ছ্বাস, তাদের যে আগ্রহ, তাদের যে আমাদের প্রতি একটা আস্থা, এটা কিন্ত তারা ফিরে পেয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।


যার কারণে কিছু  সংক্ষক ব্যাতিত অধিকাংশ মানুষ আমাদেরকে সাপোর্ট করার জন্য এগিয়ে আশার চেষ্টা করছেন। এবং একটা বড় অংশ বিশেষ করে ফেয়ার সাধারণ ভোটার এরা কিন্তু চাচ্ছে যে এই দেশে বিগত ৫৪-৫৫ বছরের যে অবস্থান ছিলো এটাকে পরিবর্তন করে একটা নতুন মুখ বা নতুন একটা ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ তারা দিতে চায়।


এটাকে তারা গ্রহণ করেছে। আমাদের প্রতি পূর্ণ আস্থা তাদের আছে। আমার বিশ্বস শুধুু আমি নয় সারা বাংলাদেশের ইসালমের বিজয় হবে। এবং দাঁড়ি পাল্লারি বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।’


স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল বলেন, ‘আমি গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়েছি। সে সময় অনেকের নামে ছিল ১৫ থেকে ৩০টির বেশি মামলা। ঘর থেকে বের হতে পারেনি, বাজার করার মানুষও ছিল না-আমি পাশে দাঁড়িয়েছি।


আজ সেই মানুষগুলো বলছে-ভাই, আপনি মনোনয়ন পাননি তো কী হয়েছে, আমরা আছি। আপনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না। এজন্যই আমি মাঠে আছি। এবং ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। 


অপর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম বলেন, ‘জনগণ আর নেতাকর্মীদের চাপেই আমাকে ভোট করতে হচ্ছে। যেখানে যাচ্ছি, সাড়া পাচ্ছি। মনে হচ্ছে মানুষ আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। আমি সব সময় জনগণের পাশে থেকেছি, আগামীতেও থাকতে চাই।’


এদিকে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বলছেন যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাকে সঠিক প্রার্থী দেওয়া হয়নি। বিগত বিএনপির সংকটময় সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর রাখেননি।


ফলে তিনি তৃণমুল নেতাকর্মীদের কাছে মনের মতো প্রার্থী হতে পারেনি। ফলে আরো দুইজন যারা মনোনয়ন পাননি তারা ধানের শীষের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন। 


এদিকে ভোটাররা বলেছেন, আগামিতে যারা সঠিক এবং সুন্দর ভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন সেই সাথে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নির্মূল, মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে তুলবেন এবং মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন ঠিক তাকেই নির্বাচিত করতে চান।