রাকসুর জিএস আহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ
ঢাকায় মিন্টু রোডে শরীফ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে আহত হয়েছেন রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এর প্রতিবাদে রাজশাহীতে সড়কে টায়ার জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের বিচারের দাবিও করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাজশাহী নগরীর তালাইমারি মোড়ে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। এসময় রাজশাহী-ঢাকা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আন্দোলনকারীরা হাদি হত্যার বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হামলার প্রতিবাদেও স্লোগান দেন। হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার কথা বলেন তারা। হাদি হত্যার বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন বিলুপ্ত হওয়া এনসিপি রাজশাহী মহানগরের সদস্য সচিব আতিকুর রহমান রুমন, অব্যাহতি পাওয়া মহানগর যুবশক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব সোয়াইব আহমেদসহ বিভিন্নজন।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দীন আম্মারের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাকসু’র প্রতিনিধিরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন তাঁরা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে জোহা চত্বরে এসে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ করা হয়।
এসময় ‘জুমা, জাবের ও আম্মার, জুলাইয়ের অহংকার’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘বিচার চাই বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘জিএসের ওপর হামলা কেন, ইন্টারিম জবাব চাই’, ‘ডগ আর পুলিশ, দুটোই খবিশ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুছ সাকিব বলেন, আমাদের ভাই হাদির ওপর দেশীয় দোসর ও বহিরাগত শত্রুরা হামলা চালিয়েছে। হাদি এমন একটি স্বাধীন ও পরনির্ভরশীলতামুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিল, যা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এটাই ছিল তার অপরাধ।
তিনি আরো বলেন, শহীদ হাদির বিচারের দাবিতে আমরা যখন জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে যাই, তখন তারা ন্যায়ের বদলে আমাদের ভাইদের ওপর গুলি চালায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল ইনকিলাব মঞ্চের। আন্দোলনকারীরা মিন্টো রোড অভিমুখে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে সালাউদ্দিন আম্মার আহত হন। এছাড়াও আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসুর মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমাসহ ২৩ জন। তাদের আহত অবস্থায় তাকে ঢামেক জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।