পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন কারাবন্দি ২০ সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা
সারাদেশের কারাগারে বন্দিদের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ২০ জন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন রোববার রাতে এ তথ্য দিয়ে বলেন, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আমলা ও সাংবাদিকদের মধ্যে ৪০ জন ভোট দিতে নিবন্ধন করেছিলেন।
“এই ৪০ জনের মধ্যে ২০ জন এখন ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বাকিরা নিয়ম অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন।”
যারা নিবন্ধন করেছেন এবং ভোট দিয়েছেন–তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি কারাগারের এই কর্মকর্তা।
নিবন্ধন করার পরও ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, “ তাদের সংশয় আছে–তারা কাকে ভোট দিচ্ছেন এটা নির্বাচন কমিশন জেনে যেতে পারে। এ কারণে তারা ভোট দিচ্ছেন না বলে আমাদের জানিয়েছেন।”
পোস্টাল ব্যালটে একটি অঙ্গীকারনামা থাকে। সেই অঙ্গীকার নামায় ভোটারকে ব্যালট পেপারে থাকা সিরিয়াল নম্বর লিখে স্বাক্ষর অথবা টিপসই দিতে হয়।
মোতাহের হোসেন বলেন, স্বাক্ষর করলে বা টিপসই দিলে ব্যালট পেপারের নম্বর ধরে সেটা বের করে কে কাকে ভোট দিল এটা জেনে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ওই বন্দিরা।
“তাদের সংশয়ের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। ভোটের তথ্য প্রকাশ হবে না বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে। সেটা জানানোর পরও ২০ জন আস্থা রাখতে পারেননি।”
দেশের ৭২টি কারাগারে বিগত সরকারে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ২৫০ জন বন্দি ডিভিশন প্রাপ্ত। তাদের মধ্যে ১৬০ জন সাবেক মন্ত্রী বা এমপি বলে তথ্য দিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারাগারে থাকা মোট বন্দির একটি বড় অংশ চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছেন।
দেশের কারাগারগুলোর ধারণ ক্ষমতা ৪৩ হাজার; সেখানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৮ হাজার। সেই সংখ্যা গত ১৭ মাসে ৮৫ হাজারে পৌঁছেছে।
এই বন্দিদের অনেকেই ভোটদানে বিরত থাকছেন জানিয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মোট বন্দিদের মধ্যে এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন ৫ হাজার ৯৬০ জন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ