রাজশাহী-৫ আসনে জামায়াত-বিএনপির লড়াইয়ের সম্ভাবনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একেবারে শেষ সময়ে লড়াই এর সম্ভাবনা রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসন।
এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাস্তবে চারজন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় পুরো নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে রেখেছিলো প্রার্থীরা।
ভোটের ফল নিজেদের অনুকূলে নিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চার প্রার্থী হলেন, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল এবং স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার রেজাউল করিম। প্রচারনা শুরুর প্রথম থেকেই এই চারজনের প্রচারণায় পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের ভোটের মাঠ ছিলো উত্তপ্ত।
৫৬ রাজশাহী-৫ আসনে এবারের নির্বাচনে ৪ জন দলীয় এবং ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা হলেন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রুহুল আমিন, একতারা প্রতীকে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী আলতাব হোসেন মোল্লা এবং মোটরসাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার।
শেষ দিনে প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে সক্রিয়ভাবে নেমে প্রচার প্রচারণা শেষ করেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও লক্ষ্য করা গেছে বাড়তি উৎসাহ ও আগ্রহ। আসনের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন টানানো হয়েছে, বিতরণ করা হয়েছে প্রতীকসংবলিত লিফলেট। পাশাপাশি মাইকিং, গণসংযোগ ও পথসভায় মুখরিত ছিলো রাজপথ। প্রার্থীরা নিজ নিজ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের মতে, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ত্রিমুখী—ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও ঘোড়া প্রতীকের মধ্যে। তবে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘিরে চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
বিগত সময়ে বিএনপির বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় এবারও দলটি আসনটি ধরে রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমানের পক্ষেও দলটির নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও রেজাউল করিম বর্তমানে ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে এই আসনের ভোট চার ভাগে বিভক্ত হবে। হেভিওয়েট স্বতন্ত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে বিশেষ করে বিএনপির ভোট ব্যাংক থেকেই ভোট গুলো কাটার সম্ভাবনা বেশি বলেছে জনসাধারণ।
আর এই সুযোগেই রয়েছেন জামায়াত তাই সাধারণ ভোটাররা বলছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গুলো যদি বেশি ভোট টানে সে ক্ষেত্রে জামায়াত পাস করা সম্ভাবনা থাকবে বেশি। তাই ফলাফলে পরপারে বড় ধরনের পরিবর্তন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-৫ আসনে দুইটি পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।
নতুন ভোটারের সংখ্যা ৪ হাজার ৭৪৯ জন।সব মিলিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে শুরু থেকেই স্পষ্ট-রাজশাহী-৫ আসনে এবারের নির্বাচন ঘিরে রয়েছে রাজনৈতিক অনেক সমীকরণ।