প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে শেষ নির্বাচনি প্রচারণা
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুিষ্ঠত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায়। গেল ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনি প্রচারণা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হয়েছে। প্রচারণার শেষ প্রান্তে প্রার্থীরা ছুটেছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। করেছেন শোডাউন ও নির্বাচনি সভা।
সোমবারই ছিল প্রচার প্রচারণার শেষ দিন। শেষ দিনে গণসংযোগ, মতবিনিময়, পথসভা আর গণমিছিলে মুখর ছিল রাজশাহী নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা পৌর এলাকা। নির্বাচনি মাঠে প্রার্থী সমর্থকদের ১৮ দিনের বাকযুদ্ধ শেষে এখন কেবল ভোট দেওয়ার পালা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বহুল প্রতিক্ষীত এই ভোট ও গণভোটে অংশ নেবেন দেশের জনগণ। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জেন-জি প্রজন্মসহ নাগরিকদের মাঝে বিপুল পরিমাণ উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছেন।
সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের পর রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারপত্র বিতরণ কিংবা গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
রাজশাহী জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৭জন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৭ জন পুরুষ এবং ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬০ জন নারী ভোটার। উপজেলায় পাঠানো হয়েছে নির্বাচনি সরঞ্জাম।
রাজশাহী ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩২জন প্রার্থী। এর মধ্যে প্রতিটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী আছে। বাকি কয়েকটি দলের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
ইসির তফসিল অনুযায়ী, গত ২২ জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন। তবে প্রথম দিকে নির্বাচনি প্রচারণা জমজমাট না হলেও শেষ মুহুর্তে এসে জমে উঠে প্রচার প্রচারণা। রাজশাহীর ছয়টি আসনে নির্বাচনি প্রচারণার উত্তাপ লক্ষ্য করা গেছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি গণমিছিল, গণসংযোগ ও পথসভায় সরগরম ছিল রাজশাহীর সবকটি আসন। প্রচারণার শেষ প্রান্তে এসেও প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। নির্বাচনি প্রচারণার শেষ মুহুর্তে এসে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটগ্রহণের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছে প্রশাসন। এবারের নির্বাচনে প্রথম বারের মতো প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে থাকছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। এছাড়াও পুলিশের সঙ্গে থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা। সবমিলিয়ে ভোট শান্তিপূর্ণ করতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ ইসি ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের।