মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাজশাহী ও পাবনায় সড়কে প্রাণ ঝরলো ছয়জনের

পুঠিয়া ও পাবনা প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পুঠিয়া ও পাবনা প্রতিনিধি ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন
রাজশাহী ও পাবনায় সড়কে প্রাণ ঝরলো ছয়জনের

রাজশাহী ও পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বাসের চালক ও হেলপার নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে পুঠিয়া পৌরসভার গন্ডগোহালী গ্রামের নিমতলা এলাকায় পুঠিয়া-তাহেরপুর আঞ্চলিক সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিমতলা বাজার এলাকায় শ্যালো মেশিনচালিত নছিমন ও বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। অপরজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনায় নছিমন চালকসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সাধনপুর থেকে পুঠিয়াগামী একটি মুরগি বোঝাই নছিমনের সঙ্গে পুঠিয়া থেকে তাহেরপুরগামী একটি বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের ( কুষ্টিয়া ট-১১-০২১৬) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

এতে নছিমনের উপর থাকা শ্রমিক নাইম (২০) ও হামিম (২৫) এবং চালক মো. সোহেল (৩৮) রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রমিক নাইম ও হামিমকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুইজনই রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হরগ্রাম শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আহত নছিমন চালক মো. সোহেল প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। দুর্ঘটনার পর ড্রাম ট্রাক চালক মোঃ মিন্টু (৪০) ও তার সহকারী মো. স্বাধীন আলী (২২) পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ট্রাকের হেলপার মো. স্বাধীন আলীকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়। ট্রাক চালক মো. মিন্টুকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

এ দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, “আমার গাড়ির দুজন লোক মারা গেছে। দেড় লাখ টাকার মতো মুরগি ছিল। অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।”

পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বালুবোঝাই ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মুরগি বহনকারী নছিমনের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এখনো মামলা হয়নি, স্বজনরা এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর কিছু সময় সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনায় আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৫ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকার পোল্লাপুকুরে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম (২২)। তিনি বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার বালাদিয়ার গ্রামে। দুর্ঘটনার পর সীমানা জটিলতা ও পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাজশাহী-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় বেলপুকুর থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের কান ধরা অবস্থায় অবরুদ্ধ করে রাখেন। 

এর আগে গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া বাজারে ঘটে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা। একটি অতিরিক্ত মালবোঝাই বালুবাহী ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজারের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এলেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের তৎপরতা দেখা যায়নি।

বর্তমানে পুঠিয়া, বানেশ্বরসহ আশপাশের উপজেলায় তিন চাকার যান, হিউম্যান হলার, মাটি ও বালুবাহী দশ চাকার ড্রাম ট্রাক, মাছবাহী পানিবহন ট্রাক ও অবৈধ অটোরিকশার চলাচল আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এদিকে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের শোলাবাড়িয়া এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এর আগে ঘটনার পর মারা যায় দুইজন। পরে হাসপাতালে মারা যায় আরো দুইজন।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজার রহমান মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া সাতটার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আব্দুল প্রামানিকের ছেলে কামাল হোসেন (৪২), পাবনা পৌর সদরের শিবরামপুর মহল্লার চমন মোল্লার ছেলে হেলপার মেহেদি হাসান জিহাদ (২৮), আটঘরিয়ার উপজেলার নরজান গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৬) ও পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মাজন আলীর ছেলে আলেফ উদ্দিন (৩৫)।

নিহতদের মধ্যে কামাল হোসেন শাহজাদপুর ট্রাভেলসের চালক ও জিহাদ মাছরাঙার এক্সপ্রেসের হেলপার ছিলেন। বাকি দু’জন মাছরাঙার এক্সপ্রেসের যাত্রী ছিলেন।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ওসি মুস্তাফিজার রহমান জানান, সকালে যাত্রীবাহী শাহজাদপুর ট্রাভেলস নামের বাসটি পাবনা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী মাছরাঙা এক্সপ্রেসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মাছরাঙার এক্সপ্রেসের হেলপার জিহাদ।

খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে। সেইসাথে দূর্ঘটনা কবলিত বাস দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দূর্ঘটনার পর বাস দুটি দুমচে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় দুই বাসের অন্তত অর্ধ শতাধিক যাত্রী।

আহতদের উদ্ধার করে সাঁথিয়া ও পাবনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহজাদপুর ট্রাভেলস এর চালক কামাল হোসেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর আলমগীর হোসেন এবং পাবনা থেকে রাজশাহী নেবার পথে আলেফ উদ্দিন মারা যায়।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) জাহিদুল ইসলাম জানান, দূর্ঘটনায় আহত ৩২ জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৬ জনকে রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ওসি মুস্তাফিজার আরো জানান, নিহতদের মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাস দুটি জব্দ করে পুলিশী হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবারের কেউ অভিযোগ দিলে মামলা হবে। আর তাদের কেউ অভিযোগ না দিলে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করবে।