মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা নিয়ে জটিলতা: জাকির এন্টারপ্রাইজের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৮ অপরাহ্ন
থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা নিয়ে জটিলতা: জাকির এন্টারপ্রাইজের সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহীতে থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা ও পূর্বসমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্লাজা পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা, একাধিক বৈঠক, সমঝোতা, মামলা এবং আর্থিক ক্ষতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে থীম ওমর প্লাজার চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সরকারের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার জাকিরুল ইসলামের মধ্যে একটি অ-প্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারনামা সম্পাদিত হয়।


ওই আম-মোক্তারনামা অনুযায়ী আগামী ২৫ বছরের জন্য থীম ওমর প্লাজা পরিচালনা এবং প্লাজার অংশ বিশেষের দোকান ভাড়ার বিনিময়ে জাকির এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা নগদ এবং অবশিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় বাবদ আরও ১ কোটি টাকা নগদ গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ ছিল।


সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ওই আম-মোক্তারনামার ভিত্তিতে গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাকির এন্টারপ্রাইজ প্লাজার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং বন্ধ থাকা চলন্ত সিঁড়িসহ অন্যান্য সেবা পুনরায় চালু করে।


এ সময় থীম রিয়েল এস্টেটের কর্মকর্তারা আম-মোক্তারনামা দেখে অফিস পরিচালনার দায়ভার তাদের নয় বলে জানিয়ে চাবি হস্তান্তর করে অফিস ত্যাগ করেন, যার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।


জাকির এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ৬ জানুয়ারি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রবিউল আলম মিলু ও মাইনুল হক হারুর মধ্যস্থতায় থীম রিয়েল এস্টেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


পরবর্তীতে ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় বৈঠকের মাধ্যমে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী থীম রিয়েল এস্টেট অফিস পরিচালনা করবে এবং জাকির এন্টারপ্রাইজ মার্কেট পরিচালনায় থাকবে।


সমঝোতার ভিত্তিতে ২০ জানুয়ারি রাতে অফিস হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও হঠাৎ করে থীম রিয়েল এস্টেটের পক্ষ থেকে দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়।


জাকির এন্টারপ্রাইজের দাবি, চেয়ারম্যান নিজে হোয়াটসঅ্যাপে মার্কেট পরিচালনায় আপত্তি নেই বলে জানালেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে।


তারা তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে কোনো সমাধান মেনে নেবেন না বলে জানান।


সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে জাকির এন্টারপ্রাইজ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা ও আইনানুগভাবে ব্যবসা পরিচালনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।