ঈশ্বরদীর ‘সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ : ভোট পড়েছে ৭৫%
পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে ‘অধিক ঝুঁকিপূণর্’ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ৮টি এবং ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ২৫টি ভোটকেন্দ্রকে চিহ্নিত করে প্রশাসন।
এই ৩৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত করা হয়। অথচ এই ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্রেই এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪শ’ ৩৬ ভোটের মধ্যে ব্যালটবাক্সে ভোট পড়েছে ২ হাজার ৬শ’ ৭৩টি। শতকরা হিসেবে যা দাঁড়ায় ৭৫ ভাগ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ নজরও ছিল এই ভোটকেন্দ্রের দিকে।
অথচ সব আশঙ্কা উড়িয়ে এই ভোটকেন্দ্রে কোন বিশৃঙ্খল পরিবেশের ছিটেফোঁটাও চোখে পড়েনি। সাঁড়াগোপালপুর, বকশির চক ও ফরাজীপাড়া এলাকার ভোটাররা সকাল থেকে দিনভর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ভোটার হাসান চৌধুরী বলেন, ইতোপূর্বে প্রতিটি নির্বাচনেই এই ভোটকেন্দ্রে মারামারি, গোলযোগ এমনকি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিগত সময়ের তুলনায় এবার এই ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ উল্টো।
দিনভর সব প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রের সামনে ও আশেপাশে স্ব-স্ব প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান গ্রহন করে, কিন্তু কারো সঙ্গে কারোর নুন্যতম তর্ক বা কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি।
ধানের শীষ প্রতিকের কর্মী তানজিরুল আলম মিটো বলেন, ইতোপূর্বে এখানে নির্বাচন নিয়ে হানাহানি হলেও এবার আমরা সব প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজেরাই ভূমিকা রেখেছি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক দাঁড়িপাল্লার কর্মী রবিউল ইসলাম বলেন, নির্বাচন নিয়ে যত বিরোধ থাকুক না কেন নির্বাচনের পরদিন থেকে তো আমাদের পাশাপাশি বসবাস করতে হবে- সে কথা ভেবে আমরা আগের মত কোন বিশৃঙ্খল পরিবেশ হতে দেইনি।
পাবনা-৪ আসনের সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ৮৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সাঁড়াগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি নজরদারি ছিল এই ভোটকেন্দ্রের প্রতি।
তাছাড়া ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশের সমন্বয়ে যৌথবাহিনীর মহড়ার কারনে এই ভোট কেন্দ্রে কোন সহিংস ঘটনা ঘটেনি।