মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

রাজশাহীতে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়থাপ্পড়ে আহত নারী প্রার্থী হাসপাতালে, মামলা নেয়নি পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়থাপ্পড়ে আহত নারী প্রার্থী হাসপাতালে, মামলা নেয়নি পুলিশ

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমকে  ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়থাপ্পড় মারার ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ। থানা থেকে ফিরে এসে প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে এই অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বলছে, একজন রাতে অভিযোগ করেছেন, তারা দেখার সময় পায়নি।


ভোট গ্রহণ চলাকালে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে পবা উপজেলার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। হাবিবা বেগমের ওপর হামলা করেন পবার হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রজব আলী।


আহত হাবিবা বেগমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, তিনি (হাবিবা) ঘুমিয়ে আছেন। তার দুই বছর বয়সী বাচ্চাটি মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করছে। তার বাবা মাসুদ রানা ছেলেকে নানাভাবে বোঝাচ্ছেন। নির্বাচনী এজেন্ট আকবার আলী সেখানেই রয়েছেন। তিনি জানান, ওই ঘটনার পর হাবিবা বেগম কানে শুনতে পাচ্ছেন না। কথা বলতেও কষ্ট পাচ্ছেন। চিকিৎসক তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন।


হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি রাজশাহী জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী ছিলেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। হাবিবা উপজেলা কৃষক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি হাইকোর্টে গিয়ে আইনি লড়াইয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান।


হাবিবা বেগমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন বলেন, হাবিবা বেগমের ওপর হামলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তবে তারা ঘটনাস্থলে আসার আগেই পুলিশের একটি টহল দল আসে। সব ঘটনা শোনার পর হামলাকারীদের সঙ্গে দূরে দাঁড়িয়ে কিছু আলাপ করার পর পুলিশ তাঁদের অরক্ষিত রেখে চলে যায়। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।


আকবর হোসেন জানান, মামলা করার জন্য প্রথমে তারা পবা থানায় যোগাযোগ করেন। ঘটনাস্থল নগরের কাটাখালী থানায় হওয়ার কারণে পুলিশ তাদের কাটাখালী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে তিনি থানায় যান। তখন ওসি থানায় ছিলেন না। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা মামলা না নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন। ওই কর্মকর্তা তাকে বলেন, ‘ওসি স্যার নাই। আমি মামলা নিতে পারব না।’ পরে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।


এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রজব আলী বলেন, তিনি জানতেন না যে ওই নারী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী। তিনি ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট চাচ্ছিলেন। আজ (গতকাল) তো ভোট চাওয়ার দিন নয়। সে জন্য তিনি নিষেধ করেন। তখন ওই নারী গালি দেন। তিনিও একটি থাপ্পড় মারেন। তবে প্রার্থীর এজেন্ট আকবার আলী দাবি করেছেন যে তার প্রার্থী কোনো গালি দেননি।  


কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী শুক্রবার দুপুরে বলেন, রাতে যখন তিনি বাইরে ছিলেন। তখন তাদের পক্ষ থেকে কেউ একজন অভিযোগ করতে এসেছিলেন। তিনি এখনো সেটা দেখতে পারেননি।


এ ব্যাপারে জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।