তারুণ্যের জোয়ারে জয়ী পুরনো ধারার রাজনীতি: রয়টার্স
জেন-জি বা জেনারেশন জেড-এর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন দলগুলোর জন্য রাজপথের উত্তাপকে ব্যালটে রূপান্তর করা যে কতটা কঠিন, তা ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ভোটের ফলাফলে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০০ আসনের সংসদে তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে মাত্র ৬টি আসন। বিপরীতে ভোটাররা বেছে নিয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি)।
জোট গঠনই কি কাল হলো?
২০২৪ সালের আন্দোলনের পর গঠিত এনসিপি নিয়ে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা থাকলেও ভোটের মাঠে তার প্রতিফলন ঘটেনি। বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মতে, ডিসেম্বরে পুরনো ধারার রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করার সিদ্ধান্তটি এনসিপির জন্য বড় ধাক্কা ছিল। শুরুতে দলটির ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত জোটের অধীনে মাত্র ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তারা।
ঢাকার এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সোহানুর রহমান বলেন, এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোট গঠনকে অনেকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছে। এর ফলে আমাদের মতো অনেক তরুণ ভোটার তাদের সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।
ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম স্বীকার করেছিলেন, নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার জন্য দলটি যথেষ্ট সময় পায়নি। এছাড়া তহবিলের সংকট এবং নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দলের অবস্থান অস্পষ্ট থাকাকেও বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শাকিল আহমেদ বলেন, অনেকে এনসিপির এই পদক্ষেপকে নতুন রাজনীতির বদলে পুরনো ধারার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া হিসেবে দেখেছেন। এটি তরুণদের ভোটকে বিভক্ত করেছে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
বিজয়ী ৬ জনের একজন আবদুল্লাহ আল আমিন (৩২) মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণেই তারা কয়েকটি আসন জিততে পেরেছেন। তবে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, এনসিপি এখন বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের পুনর্গঠন করবে এবং আগামী বছরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে নজর দেবে।
অন্যদিকে, জোট গঠনের প্রতিবাদে এনসিপি ছেড়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ঢাকা থেকে নির্বাচন করা ডা. তাসনিম জারা বড় ব্যবধানে হারলেও ৪৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা দেখিয়েছি যে পরিচ্ছন্ন প্রচারণা দিয়ে মানুষের মন জয় করা সম্ভব। আমাদের সেরা দিনগুলো এখনও সামনে।
তিনি আরও জানান, তিনি লন্ডনে তার চিকিৎসা পেশায় ফিরে না গিয়ে দেশেই রাজনীতি চালিয়ে যাবেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন