সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
দুটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

ভোট দেয়া শেষে কর্মস্থলে হলো না ফেরা শরিফুলের

নাটোর প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
ভোট দেয়া শেষে কর্মস্থলে হলো না ফেরা শরিফুলের

দীর্ঘ ১৮ বছর পর জীবনের প্রথম ভোট দিতে  কর্মস্থলে ফেরা হয়নি পোষাক শরিফুল ইসলামের। ওই একই স্থানে ট্রাকের চাপায় গুরুতর আহত হয়েছেন ডেকোরেটর কর্মী শিমুল। একজন নিহত ও আরেকজন আহতের প্রতিবাদে স্থানীয়রা সড়ত অবরোধ করে। 


শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টিকিট কাউন্টারের সামনে বাসের ধাক্কায় মারা যান শরিফুল ইসলাম।  স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ ১৪ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তার। নিহত শরিফুলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। তিনি প্রায় ১৮ বছর ধরে গাজীপুর টঙ্গী এলাকার একটি তৈরি পোষাক কারখানায় কাজ করতেন ।


এদিকে জানাজা শেষ না হতেই একই স্থানে আরেক ডেকোরেটর কর্মি শিমুল ট্রাকের চাপায় গুরুতর আহত হলে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। একদিনের ব্যবধানে দুটি সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের হয়বতপুর বাসস্ট্যান্ডে শনিবার সকাল থেকে টানা দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে স্থানীয়রা। 


এরফলে রাজশাহী, নাটোর, ঢাকাসহ উত্তর-দক্ষিণবঙ্গগামী বাস, ট্রাক, মালবাহী যানসহ সব ধরনের পরিবহন আটকা পড়ে। মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার ধরে যানজট তৈরি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের লোকজন এসে বিক্ষোভকারীদের দাবী মেনে  নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। 


নাটোর সদর উপজেলর লক্ষীপুর-খোলাবাড়িয়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত রহমত আলীর দরিদ্র পরিবারের জন্ম শরিফুলের। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঢাকা গাজীপুর, টঙ্গী এলাকায় একটি তৈরি পোষাক কারখানায় প্রায় ১৮ বছর ধরে কাজ করেন শরিফুল। সেখানে স্ত্রী ও দুই শিশু - মুস্তাকিন (৯) ও সাইম হোসেন (৪) নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।


এদিকে নিহত শরিফুলের জানাজা শেষ না হতেই আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকে একই স্থানে অজ্ঞাত একটি ট্রাকের ধাক্কায় শিমুল (২৩) নামের এক ডেকোরেটার শ্রমিক যুবক গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


এ দুর্ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ৭ টার দিকে স্থানীয়রা ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পর সড়ক বিভাগ ও হাইওয়ে পুলিশের আশ্বাসে সকাল ১০ টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।


নিহত শরিফুলের মা নুরবানু বলেন, আমার ছেলে অভারে কারণে ব্যাটার বউ ও দুই নাতীকে নিয়ে ঢাকায় কাজ করে খায়, সড়ক দুর্ঘটনায় সে মারা গেছে। আমার ছেলের ছোট্র দুইটা ছেলে আজ এতিম তাদের দেখাল কেউ নাই, তাই সরকারের কাছে বাদী এতিম দুই ছেলেটার জন্য যেন কোন কিছু করে এবং দেখে। 


নিহত শরিফুরের স্ত্রী  মনিরা বেগম জানান, তার স্বামী শরিফুলের জীবনের প্রথম ভোট দিতেই গ্রামে আসছিল। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে টিকিট কাটতে  হয়বতপুর বাসষ্ট্যান্ডে গেছিলো কিন্তু সে  টিকিট নিয়ে জীবিত ফিরে নাই। 


ঢাকাগামী এতকা স্বানীয় বাস কাউন্টারের মাষ্টার  আ্ব্দুল আল মামুন বলেন, তিনি নিজ হাতে হয়বতপুর কাউন্টার থেকে এইচ থ্রি-ফোর টিকিট ১১শ ৬০ টাকায় বুকিং দিয়েছেন, ১৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের বাসে টংগীপুর ফেরার কথা ছিল কিন্তু হঠাৎ জানলাম সে মারা গেছে। তার এ অকাল মৃত্যু কোন ভাবেই ভুলতে পারছেন না। 


নাটোর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরকার বলেন, এখানে দুর্ঘটনার হওয়ার পর পর আমরা তাৎক্ষনিক এসেছি। আগের দিনের দুর্ঘটনায় একজন মারা গেছে আজ আরেকজন আহত হয়েছে। এখানকার স্থানীয়রা তাদের দাবী পজেটিভ, সড়ক প্রসস্ত করণ ও ডিভাইডার বৃদ্ধি করা সেই কাজটি আমরা করবো। তার আগে আপাতত স্পিড ব্রেকার দেওয়ার কাজ চলছে।