সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির বিজয়ী চাঁদকে ফুলের মালা দিলেন জামায়াতে পরাজিত প্রার্থী

বাঘা প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বাঘা প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির বিজয়ী চাঁদকে ফুলের মালা দিলেন জামায়াতে পরাজিত প্রার্থী

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে দিলেন জামায়াতে ইসলামীর পরাজিত প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক। আবু সাঈদ চাঁদ শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামে নাজমুল হকের সাথে সৌন্দর্য সাক্ষাত করতে গেলে তিনি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন।


ফুলের মালা প্রথমে আবু সাঈদ চাঁদকে পরিয়ে দেন নাজমুল হক। পরে এই মালা নাজমুল হককে পরিয়ে দেন আবু সাঈদ চাঁদ। নাজমুল হক আবারও পরিয়ে দেন আবু সাঈদ চাঁদকে। 



ছোট ভাই নাজমুলের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ ক্যাপশন লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবু সাঈদ চাঁদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে মালা পরিয়ে দেওয়া ভিডিও শেয়ার দেন। 


ভিডিও দেখে রহিদুল ইসলাম নাহিদ লিখেছেন, রাজনীতিতে জয় আছে, পরাজয়ও আছে—, এটাই স্বাভাবিক, এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। কিন্তু ফলাফল ঘোষণার পর যদি আমরা হিংসা, বিদ্বেষ বা বিভেদে না জড়িয়ে পরস্পরকে সম্মান করি, তাহলেই প্রকৃত নাগরিক সচেতনতার পরিচয় দেওয়া হয়।


জয়ী হলে যেন অহংকার না আসে, পরাজিত হলে যেন হতাশা বা প্রতিশোধের মনোভাব না জন্মায় ববরং উভয় পক্ষই যদি একে অপরকে সম্মান করে, শুভেচ্ছা জানায় এবং দেশের কল্যাণে একসাথে কাজ করার মানসিকতা রাখে, সেটাই সত্যিকারের সৌন্দর্য।


রাজনীতি হোক আদর্শের প্রতিযোগিতা, শত্রুতায় নয়। মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের দূরত্ব যেন না বাড়ে। নির্বাচন একটি প্রক্রিয়া মাত্র; সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বই হলো স্থায়ী বন্ধন।


তিনি আরও লিখেন, আমরা চাই এমন একটি পরিবেশ, যেখানে জয়-পরাজয়ের পরেও সবাই একে অপরকে ভালো চোখে দেখে, হাত মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই একই দেশের নাগরিক, একই পতাকার নিচে একতাবদ্ধ। 


এছাড়া শামসুদ্দিন রিন্টু লিখেছেন, এটা রাজনীতির সৌন্দর্য , এটা দেখে রাজনৈতিক নেতাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত, রাজনীতি এমন হওয়া উচিৎ। রাজনীতি থেকে প্রতিহিংসা দূর হওয়া উচিত।


শাহিদুল ইসলাম সজিব লিখেছেন, এমনই সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে একসাথে মিলে চারঘাট বাঘার উন্নয়নের দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান সমস্ত চারঘাট বাঘা বাসীর।


এমন সৌহার্দপূর্ণ দৃশ্য দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয়ের প্রশংসা করেন নেটিজেনরা। 


জানা গেছে, ৫৫ হাজার ৭০৭ ভোটের ব্যবধানে আবু সাঈদ চাঁদ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। 


এ দিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন (লাঙ্গল) ২ হাজার ৯৩০ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রাার্থী আবদুস সালাম সুরুজ (হাতপাখা) ১ হাজার ৬২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচনী বিধিমোতাবেক জামানত হারিয়েছেন। 


এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১১৯টি। এরমধ্যে বাঘায় ৬১টি কেন্দ্রে ধানের শীষ ৬৫ হাজার ৪১০, দাঁড়িপালা ৪৫ হাজার ৬৪৫, লাঙ্গল ১ হাজার৫১৭, হাতপাখা ১ হাজার ৪৬। চারঘাটে ৫৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ধানের শীষ ৮১ হাজার ৯৪৯, দাঁড়িপালা ৪৫ হাজার ৮১৫, লাঙ্গল ১ হাজার ৩২০, হাতপাখা ৫৪০ ভোট।


এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে নারী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৬ এবং পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯১১।